নওগাঁর একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্ত। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত বাহাদুরপুর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী পপি সুলতানা, ছেলে পারভেজ এবং তিন বছরের কন্যা সাদিয়া আক্তার।
নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বিবি ও বাবা আব্দুর রশীদ অভিযোগ করেছেন, জমিজমা নিয়ে হাবিবুরের বোন ও ভগ্নিপতিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। তাদের দাবি, আড়াই বিঘা জমি দেওয়ার পরও বোন ও ভগ্নিপতিরা আরও সম্পত্তি চাইছিলেন। সেই চাহিদা মেলাতে না পারায় এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে স্বজনদের ধারণা।
হাবিবুর রহমানের বৃদ্ধ বাবা নমির উদ্দিন জানান, তার এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ছেলে হাবিবুর পরিবার ও তাকে নিয়েই বাড়িতে থাকতেন। জামাতা ও মেয়েদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করলেও, এই হত্যাকাণ্ড কেন ঘটেছে সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জমিজমা নিয়ে পরিবারের ভেতর দীর্ঘদিনের কোন্দলের কথা তারা জানতেন। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারছেন না। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
নওগাঁর এএসপি জয়ব্রত পাল জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
