মোংলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন মোরেলগন্জের জিউধরা এলাকায় একটি বাড়ীতে হরিণের মাংস উদ্ধারে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন দুইজন বনপ্রহরী।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধরা ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, হরিণ শিকার করে মাংস লুকিয়ে রাখা হয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে জিউধরা গ্রামের তালুকদার বাড়ীতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকারী জিউধরা ও আমুরবুনিয়া ক্যাম্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তালুকদার বাড়ীতে ঢুকলেই বাড়ীর মালিক দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে মুন্না (৪২) দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বনবিভাগের সদস্যরা ধাওয়া করে মুন্নাকে ধরে ফেলে। এসময় ওই বাড়ীসহ আশপাশের লোকজন এসে মুন্নাকে ছিনিয়ে নিতে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে বনবিভাগের ষ্টাফদের মারধর করে মুন্নাকে ছিনিয়ে নেয়। এতে বনবিভাগের দুই ষ্টাফ আহত হন। এ সময় বনবিভাগ আত্মরক্ষার্থে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছুড়ে। তারপরেও মুন্নার নেতৃত্বে তার আপন ভাই রিয়াদসহ (৩৮) ১০-১২ জন লোক মিলে বনপ্রহরীদের কাছে থাকা একটি চাইনিজ রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। এতে রাইফেলটি ভেঙ্গে দুই টুকরা হয়ে যায়। রাইফেল ভেঙ্গে তাতে থাকা ৫ রাউন্ড গুলিও ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
আরও পড়ুন: আস্থা অর্জন করে টাকার জন্য ব্যবসায়ীকে হত্যা করে মুয়াজ্জিন
এ সময় আত্মরক্ষার্থে বনবিভাগ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। তাতেও তাদের রক্ষা হয়নি। তারপরও সেখানে তাদেরকে দেড় ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে দুর্বৃত্তরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে। পরে আহত দুই বনপ্রহরীর মধ্যে মাসুদ রানা ও শান্ত শেখকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
মুন্না গংরা শুধু বনবিভাগের স্টাফদের মারধর, অস্ত্র ভাঙ্গা ও গুলি ছিনিয়ে ক্ষান্ত হয়নি। এরপরও বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে প্রায় দেড় থেকে দুইশ' লোক নিয়ে দেড় ঘন্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন। মো. জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একাত্তর/এসজে