সারাদেশে জ্বলানি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সঙ্কট কাটেনি। পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখনো দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। বেশিরভাগ পাম্পে মোতায়েন আছে আই্নশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। পাশাপাশি মজুত নিয়ন্ত্রণে অব্যাহত রয়েছে অভিযান। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান প্রতিদিনই চলছে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনগুলোতে সকাল থেকে চালকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টা-১০ টা থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল দেওয়া শুরু হয়। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ী ও পরিবহন চালকরা জানান- অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায়, যেগুলো চালু আছে সেখানে ভীড় বেশি।

নেত্রকোনায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তৎপর জেলা প্রশাসন। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে চলছে মোবাইল কোর্ট অভিযান, আর ডিপো থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরছে জেলায়।
গত কয়েকদিন ধরে নেত্রকোনার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযানে ৮০০ লিটার পেট্রোল এবং ৩ হাজার ৫শ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চালকরা অভিযোগ করেছেন, তারা চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার দাদনচকের একটি পাম্পে তেল নেয়া নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, রাজবাড়ীর তেল পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করার পর কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। তবে কাটেনি ভোগান্তি। লম্বা লাইনে দাড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে মোটর সাইকেল চালকদের।
চাঁদপুর জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ থাকায় কোনো ধরনের সংকটের সম্ভাবনা নেই বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চয়তার মধ্যেও গত তিনদিন ধরে সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পাম্প গুলোতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত করছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা। এছাড়া পচারের ঘটনাও ঘটছে। ইতোমধ্যে পুলিশ দেশের ১৭টি জেলায় অবৈধভাবে তেল মজুতের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।
