মাগুরা সদর উপজেলার বাহারবাগ গ্রামের আখলিমা খাতুন থাকত দাদা-দাদির সংসারে। বাবা কুবাদ মানসিক বিকারগ্রস্ত, আর মা লাকি অন্যত্র বিয়ে করে সংসার ছেড়েছে।
এদিকে সংসারে অভাব থাকায় ওই গ্রামের বাবু মিয়া তার দুই শিশু সন্তানের দেখভাল ও বাসার কাজের জন্য ঢাকার বাসায় আখলিমাকে মাসিক এক হাজার টাকা বেতনে নিয়ে আসে বিগত ১৮ মাস আগে।
তবে ঢাকায় আসার পর থেকে আর তাকে কখনই বাড়িতে যেতে দেয়া হয়নি। এমনকি তাকে গ্রামে থাকা দাদা-দাদির সাথে কখনও ফোনে মন খুলে কথা বলতে দেয়া হয়নি।
বিগত ১৮ মাস তাকে অকারণে শরীরে ধারালো কাইচি দিয়ে আঘাত করা, মারধর করা, অনাহারে রাখা, সামান্য অপরাধে প্রস্রাব-বমি খেতে বাধ্য করা হয়েছে। কঙ্কালসার আখলিমা এখন মৃত্যুর সাথে মাগুরা সদর হাসপাতালে পাঞ্জা লড়ছে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে আখলিমাকে ২২ ডিসেম্বর মাগুরা নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে দাদা ও দাদী তাকে দেখতে কলেজপাড়ায় ছুটে আসে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা দেখে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন তারা।
আরও পড়ুন: চিনি-চুন দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড়
প্রথম অবস্থায় ভয়ে মুখ খুলতে রাজি না হলেও এক পর্যায়ে আখলিমা অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দেয় দাদা-দাদির কাছে। এ অবস্থায় পরদিন ২৩ ডিসেম্বর বিকালে চিকিৎসার জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আনা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ রফিুকুল হাসান জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে সে।
আখলিমার দাদা-দাদি জানান, মাসিক এক হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও বিগত সময়ে তাও পরিশোধ করা হয়নি। উলটো নির্যাতনের ব্যাপারে কাউকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয় আখলিমাকে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, খবর জানার পরপরই আমি হাসপাতালে ছুটে যাই। ইতিমধ্যে অসুস্থ খাদিজার দাদা তজলু শেখ বাদী হয়ে বাবু মিয়া ও তার স্ত্রী লিপিকে আসামি করে মামলা করেছেন। তাৎক্ষনিক অভিযুক্ত লিপিকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
একাত্তর/এসজে