মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে চিনি ও চুন দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল গুড়, যা বিক্রি করা হচ্ছে বেশি দামে। এরইমধ্যে ভেজাল গুড় তৈরির কয়েকটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা, গালা, চালা, বয়রাসহ বেশ কিছু গ্রামে খেজুরের গুড়ে তৈরী হয় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়। এই গুড়ের সুনাম রয়েছে দেশ-বিদেশে।
খেজুর গুড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অসাধু কয়েকটি চক্র ভেজাল গুড় তৈরি শুরু করেছে। এসব অসাধু গুড় বেপারীরা সামান্য কিছু রসের সঙ্গে পানি, চিনি ও চুন মিশিয়ে তৈরী করছে ভেজাল গুড়।
সুন্দর রং ও ঘ্রানের কারনে ক্রেতারাও আকৃষ্ট হয় এসব গুড় কিনতে। ভেজাল এসব গুড় বেশি দামে বিক্রি করছে তারা। এসব গুড় কারিগররা জানান, প্রতি দুই মন গুড়ে তৈরীতে একমন চিনি মেশানো হয়। এছাড়া গুড়ের রঙের জন্য মেশানো হয় চুন, যা দিয়ে ক্ষতিকর জীবানুও ধ্বংস হয় বলে দাবি গুড় কারিগরদের।
তারা আরও জানান, শুধুমাত্র খেজুর রসের গুড় তৈরিতে খরচ পড়ে অনেক বেশী। বেশি দাম দিয়ে গুড় কিনতে চায়না ক্রেতারা।
আরও পড়ুন: পাওনা টাকা ফেরত চেয়ে চেয়ারম্যানের পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
এলাকাবাসী ও ক্রেতারা জানান, গুড়ে চিনি মেশানো হয় তারা জানেন, তবে ক্ষতিকর চুন ও রং মেশানোর বিষয়টি তাদের জানা নেই। এসব অসাধু গুড় বেপারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ১০-১২ টি গ্রামে শতাধিক অসাধু গুড় তৈরির কারখানা রয়েছে। ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে গুড় তৈরির বিষয়টি জানতে পেরে হরিরামপুরের ঝিটকা, ঠাকুরপাড়া, মাজমপাড়া, ইন্তাজগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান টিম।
মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, অভিযানে ভেজাল উপাদান দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গুড় তৈরির অপরাধে জরিমানা করে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/টিএ
