অভিযান-১০: ওপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট

দেশের সবচেয়ে বড় নদীবন্দর সদরঘাট। কিন্তু বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে লোকমুখে একটি বদনাম ছড়িয়ে পরে- ‘ওপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট’। পরে এই বদনাম পরিণত হয়ে যায় বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্যে। যা সারাদেশেই সমানভাবে প্রচলিত।

দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা জেলার সুগন্ধা নদীতে আগুন ট্রাজেডির শিকার হতভাগ্য ‘অভিযান-১০’ লঞ্চটি সেই প্রবাদের বড় উদাহরণ হতে পারে। কারণ, সংশ্লিষ্টরা জানালেন, যাত্রীবাহী এই লঞ্চ বাইরে থেকে চকচকে হলেও ভেতর ছিলো মরচে ধরা।

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চ অভিযান-১০ ঢাকা-বরগুনা রুটে চলতি বছরই যুক্ত হয়। এই কারণে, লঞ্চটির যাত্রী সেবার মান বাড়াতে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় আনা হয়েছিলো পরিবর্তন। 

বিলাসবহুল লঞ্চের পরিচিতি দিতে নতুন করে সাজানো হয় দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা। ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনেও আনা হয় পরিবর্তন। এসি, নন এসি, সিঙ্গেল, ডাবল ও ফ্যামিলি কেবিনগুলোকে করে তোলা হয় আরো ঝকঝকে।

যোগ করা হয় দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। সব কিছুই ঝকঝকে আর আধুনিক করা হয়। উপরে দেখতে আধুনিক হলেও লঞ্চটির ইঞ্জিন ছিলো বেশ পুরনো। যাত্রীদের দাবি, ইঞ্জিন রুম থেকে আগুন লেগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লঞ্চটির মালিক জালাল শেখ। তিনি জানান, দুই মাস হলো জাপানি নতুন (ডাইহাতসু) ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়েছিলো লঞ্চটিতে। সেই সঙ্গে লঞ্চে কমপক্ষে ২১টি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ছিলো বলে দাবিও করেন তিনি।

লঞ্চে কোনো যান্ত্রিক ক্রুটি ছিলো না দাবি করে জালাল বলেন, দোতলায় একটা বিকট বিস্ফোরণ হয়, সঙ্গে সঙ্গে কেবিনে আর লঞ্চের পেছনের বিভিন্ন অংশে আগুন দেখা যায়। তারপর তৃতীয় তলার কেবিন ও নিচতলায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন।

আগুনে পুড়ে লঞ্চটি এখন কেবলই স্টিলের একটি খোলসে পরিণত হয়েছে। দেখে আর বোঝার উপায় নেই, অভিযান-১০ ছিলো ঢাকা-বরগুনা রুটে আধুনিক সাজসজ্জার একটি অন্যতম লঞ্চ। 


একাত্তর/ এনএ