সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে আবারও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি দল সাতছড়ির দু’টি জায়গা থেকে ১৫টি রকেট প্রপেলড গ্রেনেড, ২৫টি বুস্টার ও লংরেঞ্জ অটোমেটিক মেশিনগানের ৫১০ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করে। বিকেলে চুনারুঘাট থানায় এসব তথ্য জানান কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। 

তিনি জানান, রোববার রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে আবেল ত্রিপুরা অমিত নামে খাগড়াছড়ির এক যুবককে আটক করেন তারা। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে সাথে নিয়েই সাতছড়িতে অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম। অমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে তারা। তথ্য পেলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ওসমানী বিমানবন্দরে ১১ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, আটক চার

সর্বশেষ গত ২ মার্চ ও ৩ মার্চ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অভিযান চালিয়ে ১৮টি কামান বিধ্বংসী রকেট সেল উদ্ধার করে। এর আগে ২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, একটি বেটাগান, ছয়টি এসএলআর, একটি অটোরাইফেল, পাঁচটি মেশিনগানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে র‍্যাব। 

এরপর আবারো ওই বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে চতুর্থ দফার প্রথম পর্যায়ে উদ্যানের গহিন অরণ্যে মাটি খুঁড়ে তিনটি মেশিনগান, চারটি ব্যারেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৫০গুলির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আটটি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়। পরে ১৭ অক্টোবর দুপুরে এসএমজি ও এলএমজির ৮ হাজার ৩৬০ রাউন্ড, থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়। 

৫ম দফায় ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাতছড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ১০টি হাই এক্সক্লুসিভ ৪০ এমএম অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়। ৬ষ্ঠ দফায় ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৩টি রকেট লঞ্চারের শেলসহ বেশকিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।


একাত্তর/এসজে