কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুতে ৪৪ শিক্ষার্থীকে শোকজ

কুয়েট শিক্ষক মোহাম্মদ সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় ৪৪ শিক্ষার্থীকে কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ওই ৪৪ জনকে নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে শোকজ করা শিক্ষার্থীদের সবাই কুয়েটের বিভিন্ন বিভাগ ও হলের শিক্ষার্থী। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর)খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ২৮ দিন পর ৪৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেনের কাছে জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদন নিয়ে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটিতে আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের এই শোকজ করা হলো। পরবর্তী সিদ্ধান্তের পর এটি সিন্ডিকেট সভায় যাবে এবং নিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত হবে।

প্রসঙ্গত, ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা সেজানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী অধ্যাপক সেলিমের সাথে দেখা করে আসার পর বাসায় ফিরে মারা যান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর পর অভিযোগ ওঠে সেজানসহ ওই শিক্ষার্থীরা তাকে লাঞ্ছিত করেছিলেন, যা তাকে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

শিক্ষক সেলিমের মৃত্যুর পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ২ ও ৩ ডিসেম্বর সিন্ডিকেটের ৭৬তম জরুরি হয়। সেখানে ৩ থেকে ১৩ ডিসেম্বর ক্যাম্পাস বন্ধ, ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যর কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন: কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুতে ৪৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা

উল্লেখ্য, কুয়েটে শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান কয়েকজন ছাত্র তাদের মনোনীত প্রার্থীকে ডাইনিং ম্যানেজার করার জন্য হল প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায়, ৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্ররা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তারা শিক্ষককে ধরে নিয়ে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা ওই শিক্ষকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর শিক্ষক সেলিম দুপুরে খাবার খেতে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বাসায় যান। বিকাল ৩টার দিকে স্ত্রী লক্ষ্য করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না।

পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে দাফনের ১৫ দিন পর গত ১৫ ডিসেম্বর সকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

এরপর মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য লাশ ঢাকায় পাঠানো হয়। ১৬ ডিসেম্বর রাতে লাশ কুষ্টিয়া পৌঁছানোর পর একই কবরে তাকে দাফন করা হয়।


একাত্তর/টিএ