যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে র্যাব ও সংস্থাটির ছয়জন কর্মকর্তার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে কয়েকদিন আগে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
রোববার (২ জানুয়ারি) সিলেটে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আবদুল মোমেন বলেন, কিছুদিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়। অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সেই সময় একটি আন্তর্জাতিক সফরে থাকার সময় তাকে টেলিফোন করেন। ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোনে কথা হয়।
সেই সময় র্যাব ও সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা হয়।
সেই টেলিফোন আলাপে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন। বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয় উক্ত আলাপের ভিত্তিতে এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এ কে আবদুল মোমেন একটি চিঠি পাঠিয়েছেন অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনকে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, র্যাব ও কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে তাকে ব্লিঙ্কেন জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাকে বললাম যে, বিভিন্ন প্রকারে আপনাদের সঙ্গে আমাদের ৫০ বছরের উত্তম সম্পর্ক। বিভিন্নভাবে ডায়ালগ-আলোচনার স্কোপ আছে। আমরা কিছু না জেনে হঠাৎ করে এটায় আমাদের দেশের মানুষ সারপ্রাইজড, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল।’
আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্ট ভবনে আগুন
‘আরও বললাম যে, এটা কিন্তু যথেষ্ট ক্রেডিবল অর্গানাইজেশন। এদের কারণে সন্ত্রাস কমেছে, ড্রাগ মোটামুটি আন্ডার কন্ট্রোল, হিউম্যান ট্রাফিকিং, যেগুলো আপনাদের গোল- সুতরাং আমাদের কাছে খুব তাজ্জব, আশ্চর্য মনে হয়েছে’, বলেন মোমেন।
প্রসঙ্গত, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে (১০ ডিসেম্বর) র্যাব ও সংস্থাটির সাবেক-বর্তমান ছয় জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর।
একাত্তর/আরএ