যুবদল নেতা হত্যা মামলায় সাতজনের যাবজ্জীবন

লক্ষ্মীপুরের বহুল আলোচিত যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় সাত আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় আরও ১১ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন।

নিহত আনোয়ার হোসেন দত্তপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আবদুল বাতেনের পুত্র এবং প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন শামীমের ছোট ভাই।

এছাড়া তিনি ওই ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তার ভাই চেয়ারম্যান শামীমও সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন।

জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডবিধি ৩০২/১০৯ ধারায় অপরাধী সাব্যস্ত করে সাত আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রায়েরবাগে আট তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আজিজ মেম্বার ও তার ছেলে সবুজ, বিল্লাল হোসেন বিপ্লব, ইব্রাহিম, মানিক, ইসমাইল হোসেন এবং আবুল কাশেম মেম্বার।

রায় দেওয়ার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল ও আবুল কাশেম মেম্বার উপস্থিত ছিলেন। বাকী আসামিরা পলাতক রয়েছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার দত্তপাড়ায় দত্তপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন শামীম (প্রয়াত) ও তার ভাই আনোয়ার হোসেন ২০১১ সালের ৪ জুন দত্তপাড়া বাজারের তার নির্বাচনী অফিসে বসে ছিলেন।

এ সময় ঘটনার সাথে জড়িতরা নির্বাচনী অফিসে হামলা করে আনোয়ারের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

পরদিন তার বড়ভাই মো. আশেক ই এলাহী ওরফে বাবুল বাদি হয়ে সদর থানায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে অভিযুক্ত ১৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৪ জনের স্বাক্ষী গ্রহণের পর আদালত সাত জনের যাবজ্জীবন ও ১১ জনকে খালাস দেন।


একাত্তর/টিএ