সোমবার (৩ জানুয়ারি) সকালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে গ্রাহকরা দেখতে পান, সব ঠিক থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগের মিটার বক্সে রয়েছে একটি টোকেন। সেখানে লেখা রয়েছে মোবাইল নম্বর। যোগাযোগ করলে মিটারপ্রতি তিন থেকে ছয় হাজার টাকা বিকাশে পাঠালে মেলে মিটারের হদিস।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে বছরখানেক আগে এভাবে মিটার চুরির ঘটনা শুরু হলেও তা বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিলো। কিন্তু আবারো নতুন করে মিটার চুরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চালকল মালিকরা। বিদ্যুৎ সংযোগের তার, পিলার সব আছে। শুধু নেই মিটার।
তবে টাকা দিয়ে মিটার মিললেও পল্লী বিদ্যুতের হয়রানিতে পড়তে হয় গ্রাহকদের।
আর এতে বন্ধ হয়ে গেছে ১৭টি চালকল। এতে ধান সিদ্ধ করা থেকে শুরু করে চাল তৈরির সকল প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। বিপাকে পড়েছেন চালকল মালিকরা।
আবারো নতুন করে মিটার চুরির ঘটনায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গ্রাহকরা। মিটার চুরি রোধ করার জন্য পালাক্রমে রাতে পাহারা দিচ্ছেন তারা। তবে তাদের অভিযোগ, লাইনম্যানের সাথে বাইরে থেকে কাজ করতে আসা শ্রমিকরা এ কাজে যুক্ত থাকতে পারেন।
আরও পড়ুন: চাকরির প্রলোভনে শিক্ষার্থীদের টাকা মেরে দিলেন শিক্ষক
সিরাজগঞ্জ-২ পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপক অখিল কুমার সাহা জানান, ইলেক্ট্রিশিয়ানের সহায়তায় এমন চুরি হতে পারে। তবে গ্রাহকদের মিটার পাহারা দেবার পরামর্শ আর থানায় অভিযোগ দিয়ে তিনি তার দায় সেরেছেন।
কামারখন্দ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহীনূর কবীর জানান, গতবার সাভার থেকে চোরচক্রের চারজন গ্রেপ্তার করার পর বছর খানেক চুরি বন্ধ ছিলো। এবার প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তারা চোরচক্রকে ধরবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জের প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই ট্রান্সফরমার-মিটার চুরির ঘটনা অহরহ ঘটলেও তা থামাতে পারছেনা কেউই। বরঞ্চ বেড়েই চলেছে চোরের উৎপাত।