গোপালগঞ্জে তৈরি হচ্ছে বিশ কেজি ওজনের রসগোল্লা

গোপালগঞ্জে পঞ্চাশ বছর ধরে তৈরি হচ্ছে পনেরো থেকে বিশ কেজি ওজনের রসগোল্লা। একটি মিষ্টি বিশ কেজি ওজন হওয়ায় দেশ বিদেশের মানুষ এখান থেকে মিষ্টি নিচ্ছে প্রতিদিন।

কুঁড়েঘরে তৈরি করা এই মিষ্টি শুধু দেশের জেলাগুলোতেই না, যাচ্ছে আমেরিকা, ইতালি, মালয়েশিয়া, সৌদিসহ বিশ্বের নানা দেশে।

অর্থের অভাবে বড় পরিসরে শহরের কোথাও দোকান দিতে না পারায় অজপাড়া গায়ে বসেই রনজিত ময়রা তৈরি করছেন এই মিষ্টি। কোন প্রকার পাউডার ছাড়া শুধু ছানা দিয়ে তৈরি হচ্ছে তিন থেকে বিশ কেজি ওজনের রশগোল্লাসহ নানা প্রকৃতির ছানার মিষ্টি।

গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার ভেড়ার বাজারে প্রায় একশ বছর আগে ছোট একটি কুঁড়েঘরে তিন থেকে বিশ কেজি ওজনের রসগোল্লা বানানো শুরু করেন উপেন ময়রা।

উপেনের মৃত্যুর পর ছেলে রনজিত বাবার কাছ থেকে শেখা দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য এই রসগোল্লা বানানো শুরু করেন।


ওজনে ভারি মিষ্টি ছাড়াও এখানে তৈরি হয় নানা ধরনের ছানার মিষ্টি। অর্থের অভাবে বড় পরিসরে দোকান না দিতে পারলেও কুঁড়েঘর থেকে একটি টিনের ছাপড়া ঘর তৈরি করে সেখানেই মিষ্টি বানান রনজিত।

আরও পড়ুন: শীতের সবজিতে ভরপুর পাবনা

একদিকে যেমন মানুষ এই মিষ্টি বানানো দেখতে আসে, তেমনি দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশ থেকেও এই মিষ্টি অর্ডার করে নেয় অনেকেই। এখন পর্যন্ত আমেরিকা, ইতালি, মালয়েশিয়া, সৌদিসহ বিশ্বের নানা দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী পাঠানো হয়েছে এই ভারি রসগোল্লা। 

রনজিৎ জনান, ছোট ছানার মিষ্টিতে কেজি প্রতি একশ গ্রাম ময়দা ব্যবহার করলেও বড় মিষ্টিগুলো তৈরি হয় কোন প্রকার পাউডার ছাড়াই। দেশের এই বৃহৎ রসগোল্লা সবারই মনকাড়া। রনজিৎ ময়রার মিষ্টি খেয়ে উপহারও দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরঞ্জামাদি ও প্রয়োজনীয় অর্থসহ শহরে দোকান থাকলে এই বৃহৎ মিষ্টি শুধু দেশেই না, বিদেশিদেরও মন কেড়ে নেবে বলে দাবি তাদের। এমনকি এক মন ওজনের রশগোল্লাও বানিয়ে দিতে পারবেন বলে দাবি করেন রনজিৎ।

গোপালগঞ্জের দেড়শ বছরের এই পুরোনো ঐতিহ্য বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই এলাকার মানুষ।


একাত্তর/টিএ