নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের টিপুরদী এলাকায় অবস্থিত তৈরী পোশাক কারখানা চৈতী গ্রুপের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ, যুবলীগের সাহায্যে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের কাছে থেকে জানা গেছে, চৈতি গ্রুপ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ছোট শীলমান্দি গ্রামের নিরীহ মানুষের বাড়িঘর জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি ওই গ্রামের বসত ভিটা বিক্রির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়, এতে রাজী না হওয়ায় শনিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে চৈতি গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানের নির্দেশে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন লোক দিয়ে ছোট শীলমান্দি গ্রামের নুরে আলম, আসাদ মিয়া ও জাকির হোসেনের বাড়িঘর ভাংচুর করে। একইসাথে ভেকু (এক্সভেটর) দিয়ে গুড়িয়ে চৈতি গ্রুপ সীমানা পিলারের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ শতাংশ জমি দখল করে নেয়।
এ সময় স্থানীয়রা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে চৈতি গ্রুপের শ্রমিকরা তাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশের একটি দল উপস্থিত থাকলেও তাদের কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।
পরে ভুক্তভোগীরা ৯৯৯ ফোন দিলে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আসাদ মিয়ার স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিন বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভূক্তভোগী আসাদ মিয়ার স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিন জানান, চৈতি কোম্পানির অনুরোধে আমার পৈত্রিক বাড়ির ১১ শতাংশ জমি বিক্রি করি। আবারো আমার বসতভিটা বিক্রির জন্য তারা চাপ দেন। এতে রাজী না হওয়ায় চৈতি গ্রুপের পোষা সন্ত্রাসী ও স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়ে বাড়ীঘর ভাংচুর করে ভেকু দিয়ে মাটির সঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। আমরা বাধা দেওয়ায় আমাদেরকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
ভুক্তভোগী জাকির হোসেন জানান, আমার পৈত্তিক সম্পতিতে বালু ভরাট করি। রাতের আঁধারে বেকু দিয়ে বালু তুলে নিয়ে সেই জমি দখল করে নেয় চৈতি গ্রুপ। আমরা জমির টাকা দাবি করলে বাজার মূল্য দিচ্ছেনা।
এ বিষয়ে চৈতি গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন আগেই জমি ক্রয় করলেও স্থানীয়রা দখল ছাড়ছেনা। আমরা ক্রয়কৃত জমিতেই দখল নিয়েছি। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাত্তর/এসএ