ত্রিভুজ প্রেমের জেরেই খুন হয় বিধান

কুষ্টিয়া শহরতলীর জুগিয়া পালপাড়ায় সাগর আহমেদ বিধান (১৯) নামে এক শ্রমিককে খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ত্রিভুজ প্রেমের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকারী তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জুগিয়া শেখপাড়া এলাকার মৃত সৈয়দুর ইসলামের ছেলে শাকিল (২৮), একই এলাকার সন্টুর ইসলামের ছেলে সাব্বির আহম্মেদ শান্ত (১৯) এবং মঙ্গলবাড়িয়া ঈদগাহ পাড়ার এলাকার লুৎফর মালিথার ছেলে আনারুল ইসলাম (২৯)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা বিধানকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাত করে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার খায়রুল আলম। 

পুলিশ সুপার জানান, নিহত সাগর আহমেদ বিধান ও আসামিদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের। জুগিয়া এলাকার এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে আসামি সাব্বির আহম্মেদ শান্ত ও নিহত সাগর আহমেদ বিধানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। 

আরও পড়ুন: পুকুর থেকে বিশাল অজগর উদ্ধার

এরই জের ধরে গত ৮ জানুয়ারি সকালে মোটরসাইকেল ক্রয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোনে আসামিরা বিধানকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে নৌকায় তুলে নিয়ে কোমল পানীয়র মধ্যে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে তাকে পান করিয়ে অচেতন করার পর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের সঙ্গে রশি দিয়ে বালির বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয় তারা। 

সেদিন বিকেলেই বিধানের মরদেহটি তালবাড়িয়া বালি ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করলে নিহত বিধানের পরিবারের লোকজন তার মরদেহ বলে শনাক্ত করে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ১৭ জানুয়ারি সকালে মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা এসব তথ্য দেয়। 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় নিহত বিধানের পিতা আব্দুল গনি বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, নিহত সাগর আহমেদ বিধান গত ৮ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।


একাত্তর/এসজে