সংকটের অজুহাতে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সার

দেশের সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলা ধান উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী। খাদ্য উদ্বৃত্ত এ জেলার কৃষকরা আমন ধানের ভালো দাম পাওয়ায় শীত উপেক্ষা করেই শুরু করেছেন ইরি-বোরো ধানের আবাদ। কিন্তু হঠাৎ করে এই সময়ে সংকটের অজুহাতে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে কৃষকের অতিপ্রয়োজনীয় এমওপি (পটাশ) সার। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার বা বাজারের খোলা দোকানে সার কিনতে গেলে বলে সার নেই, আবার টাকা বেশি দিলে মেলে কৃষকের কাঙ্খিত সার।

সরেজমিনে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এমওপি বা পটাশ সার গাছের শিকড় পোক্ত ও বড় করে। ধানের চারা লাগানোর সময় একবার এবং শীষ বের হওয়ার আগে আরেকবার এ সার ক্ষেতে দিতে হয়। এজন্য দোকানে সার কিনতে গেলে দোকানিরা বলে সার নেই, তবে বাড়তি কিছু টাকা দিলে পাওয়া যায় সার। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, এমওপি সার প্রতি বস্তা ৭৫০ টাকা নির্ধারিত করে সরকার। কিন্তু নির্ধারিত দামে সার কিনতে গেলে সার দোকানে রেখেই বলে সার নেই। এ নিয়ে গত ৭/৮দিন ধরে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে।

কৃষকরা অভিযোগ করে জানায়, সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। কেননা সার থাকার পরও বেশি দামে বিক্রির জন্য বলে সার নেই। শেরপুর শহরের আখের বাজার এলাকার কৃষক লাল মিয়া বলেন, সার নাই বাজারে, বেশি দাম দিলে গোডাউনের কথা বলে সার নিয়ে আহে। এজন্য বেশি দামেই কিনতাছি। কি আর করার আছে।

শ্রীবরদী উপজেলা জালকাটা এলাকার কৃষক আলম মিয়া বলেন, বাপু কয়েকদিন ধরে খুব ঝামেলার মধ্যে আছি, বাজারে সার কিনবার গেলে আমারে দেখেই বলে সার নেই, কারণ আমি পরিচিত মানুষ, আমার কাছে বেশি দাম কিভাবে নিবে। কিন্তু অপরিচিত লোক পাঠালে বেশি দাম নিয়ে সার বিক্রি করতেছে। এহন আপনারাই কন বিপদ না তালে আমার।

পাশেই আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, লংগরপাড়া বাজরে থেকে ১২শ টাকা দিয়ে এক বস্তা সার নিয়ে আইলাম আজ। দিবার ই চায় না, জোর করে আনছি। শ্রীবরদী বাজারে কিনবার গেছিলাম দোকানদার বলে সার নাই।

জেলায় কয়েকজন সার ডিলারের সাথে কথা বলে জানা যায়, এমওপি সার তাদের কাছে নেই। আবার কয়েকটি দোকানে কিছু আছে যা সরকারি মূল্যের চেয়ে প্রতি বস্তায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি। আবার এসব সার খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১১০০টাকা বস্তায়।

শ্রীবরদী উত্তর বাজারের মেসার্স বিজয় ট্রেডার্সের মালিক আমিনুল ইসলাম বলেন, সার বিএডিসি সরবরাহ করতে পারছে না বিধায় বাজারে সংকট রয়েছে। দুইদিন আগে আমি কিছু সার পেয়েছিলাম তা সরকারি দামেই কৃষকের কাছে বিক্রি করেছি। তবে বাইরের খোলা বাজারে হয়তো দাম বেশি নিতে পারে আমার জানা নেই।

জেলা সার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি রাসেদুল ইসলাম বলেন, বিএডিসি সরবরাহ করতে না পারায় বাজারে এমওপির সংকট। তবে দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে তা ঠিক নয়। তারপরও আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো।

শেরপুর বিএডিসি গুদামের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল আলম বলেন, এ মাসের ১তারিখে ৭৩৬ টন এমওপি ডিলারদের সরবরাহ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার শেরপুরের জন্য আরও এমওপি পাঠাতে চেয়েছে। গুদামে জায়গা না থাকায় নেওয়া যায়নি। এখন জায়গা খালি হয়েছে। এমওপি আসা শুরু হয়েছে। ডিলারদের চাহিদামতো সরবরাহ করা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মুহিত কুমার দে বলেন, ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপন শুরু করেছেন কৃষকরা। ত‌বে পটাশ সার সংকট আ‌ছে। আমরা আশা কর‌ছি, আগামী ১/২ দি‌নের ম‌ধ্যে সব স্বাভা‌বিক হ‌বে।


একাত্তর/এসএ