নেত্রকোণার সীমান্ত উপজেলা দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীতে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের সময় পেলুডার উল্টে খোকন মিয়া নামে (৩৫) এক চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আগার গ্রামের ১নং বালু মহালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত খোকন উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন আগে শুরু হওয়া সোমেশ্বরী নদীর ১নং বালুরঘাটে ড্রেজার মালিক রোকন উদ্দিনের অধীনে সাব পেলুডার চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তারই আপন ছোট ভাই খোকন মিয়া। ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে উত্তোলিত বালু পেলুডারের সহায়তায় ভরা হয় ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক গুলোতে।
বুধবার রাতে পেলুডার মূল চালক চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব বুঝে নেন খোকন মিয়া। সারারাত নদীতে কাজ করে সকালে ট্রাকে বালু লোড করা অবস্থায় একটি গর্তের সামনে পেলুডারটি উল্টে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে অপর একটি পেলুডার সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল করিম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নানা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ও স্বচ্ছ পানির নদী সোমেশ্বরীতে গেল ১১ বছর ধরে চলে আসছে বালুখেকোদের দৌরাত্ম্যে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে পুরো নদী আজ হুমকির দ্বারপ্রান্তে। প্রাকৃতিক এই নদী এখন রূপ পাল্টাচ্ছে মৃত্যুপুরীতে। প্রতি বছরই বালুখেকোদের তৈরি করা নিষিদ্ধ বাংলা ড্রেজারে গর্তে ডুবে, ট্রাকচাপায় সহ নিহত হচ্ছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বালু শ্রমিকরা। এক পরিসংখ্যান বলছে শুধু ২০২১ সালেই সোমেশ্বরীর বিভিন্ন বালুরঘাটে শিশুসহ মারা গিয়েছেন ৬ জনের অধিক। এই নিয়ে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি গেল ১১ বছরেও। তাই স্থানীয়দের দাবি অবৈধ বালু উত্তোলনের সকল পন্থা বন্ধ করা হোক। প্রয়োজনে নদী ও নদী তীরবর্তী মানুষদের বাঁচাতে বালু উত্তোলনের ইজারা বন্ধের দাবি তাদের।
একাত্তর/এসএ