সারাদেশে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। শুধু বয়স্করা নন করোনায় মারা যাচ্ছে নবজাতকও। তবুও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বহু মানুষ, ব্যবহার করছেন না মাস্ক।
তবে, এরই মধ্যে করোনা টিকা কেন্দ্রে আগ্রহীদের ভিড় বেড়েছে। অনেক জেলয়১২-১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শেষ হয়েছে।
সীমান্ত ঘেষা হাওরের জেলা নেত্রকোণায় বেড়েই চলছে সংক্রমণ। শুধু বয়স্কমানুষই নন করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন নবজাতক শিশুরাও। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েজেলার আটপাড়া উপজেলার এক নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ সময় শনাক্তের হার ছিলো ৩৫.০৪ শতাংশ।
যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আর, গত ২৪ ঘণ্টায়যশোরে ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ৭১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৯শতাংশ।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত পাঁচ জনের মৃত্যুহয়েছে। এর মধ্যে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও ঝিনাইদহে একজন করে মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগটির দশ জেলায় দুই হাজার ২৫২ জনের নমুনা পরীক্ষাকরে ৭৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার প্রায় ৩৩ শতাংশ।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আরও দুই জন মারা গেছেন। একইসঙ্গে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও একজন।
রোগীর চাপ বাড়ায় সেখানের করোনা ইউনিটের আরও ৪৪টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। ১০৪ থেকে বেড়ে এই ইউনিটের শয্যা এখন ১৪৬টি। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই ইউনিটে রোগীভর্তি ছিলেন ৬৫ জন। একদিন আগেও এই সংখ্যা ছিল ৬৩ জন।
রাজশাহী জেলায় একদিনের ব্যবধানে করোনা শনাক্তের হার কিছুটা কমেছে। রাজশাহী জেলার ৫২৬ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করে ২২৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।
এই সময়ে শনাক্তের হার ছিল ৪২ দশমিক ৪০ শতাংশ। যেখানে গত সোমবার করোনা শনাক্তের হার ছিল ৫২ দশমিক ২৭ শতাংশ।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৩২ শতাংশ। এই সময়ে ভাইরাসটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রামের ১০টি ল্যাবে ২ হাজার ৫৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭৬ জনই চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা। বাকি ১৭৩ জন বিভিন্নউপজেলার বাসিন্দা।
সিলেট করোনা আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বুধবার নতুন করে মারা গেছেন আরও একজন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩৮ জন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও সংক্রমণের হার উর্ধ্বমুখী। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় জেলায় করোনা সংক্রমণের হার এখন ১৮.৫২ শতাংশ। তারপরও হাট-বাজারসহ সবখানে মানুষের ভিড়।
গোপালগঞ্জে গত দুই সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ শতাংশ থাকলেও এখনতা দাঁড়িয়েছে প্রায় চল্লিশ শতাংশে। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দুরুত্ব না মানায় খুব দ্রুত জেলায় বাড়ছে সংক্রমণ।
নড়াইলে শেষ হয়েছে ১২-১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়া। ইতিমধ্যেপ্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজের পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে।
ফরিদপুরেও চলছে টিকা কার্যক্রম। জেলায় টিকার কোনো সংকট না থাকায় স্বাচ্ছন্দেটিকা নিতে পারছেন টিকা নিতে আগ্রহীরা।
একাত্তর/এসএ