বরিশালে ৯০ বছরের বৃদ্ধা সাবিত্রী খুবই অসুস্থ্ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে গিয়েছিলেন তার নিজের ভাই। অথচ রক্তের সম্পর্কের কেউ না হয়েও সাবিত্রীকে সেবা করছেন রবিউল মুন্সি।
জাত ধর্ম ভুলে রবিউলের এমন মানবতায় গর্বিত এলাকার লোকজন। বিষয়টি জানার পর সাবিত্রী রানীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জীবনে শেষ সময়ে নিজের বাড়ি হারিয়ে সাবিত্রী রানীর নতুন আশ্রয় রবিউলের ঘর। সেখানেই রবিউলের আদর যত্নে চলছে তাকে সুস্থ্য করে তোলার কাজ।
সাবিত্রী রানী জানান, এখন তিনি সুস্থ আছেন এবং ভবিষ্যতে রবিউলের কাছেই থাকতে চান। ফিরে যেতে চান না আপন ভাইয়ের কাছে।
আরও পড়ুন: অবসরে যাওয়া ডাক পিয়নরা এখন ‘নগদ’ উদ্যোক্তা
প্রায় নয় মাস আগে বৃদ্ধা সাবিত্রী কর্মকারকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী গ্যাসটারবাইন এলাকার পাটনি বাড়ি রোডে রেখে যান তার ভাই।
সেই সময় অসুস্থ ছিলেন সাবিত্রী। তাঁকে উদ্ধার করে শের বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান তরুণ রবিউল ইসলাম মুন্সি।
তিনি জানান, নয় মাস আগে অসুস্থ্য অবস্থায় তিনি পেয়েছিলেন সাবিত্রী রানীকে। জাত-ধর্ম ভুলে সে সময় মানুষটিকে সুস্থ্য করাই ছিলো প্রধান উদ্দেশ্য।
রবিউল বলেন, সাবিত্রী কর্মকার একজন মানুষ। আমি চাইলে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে আসতে পারতাম। কিন্তু সেটি করলে মানুষ হয়ে জন্মানোটা বৃথা হয়ে যেত।
হাসপাতালে দু’মাস চিকিৎসা শেষে স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে মুন্সি নিজের বাসায় নিয়ে আসেন সাবিত্রীকে। তাঁর সেবা-শুশ্রূষার জন্য মাসিক চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন আরেক নারীকে।
প্রথম দিকে সাবিত্রী রানী অন্য ধর্মের মানুষ হবার কারণে অনেকে আপত্তি জানিয়েছিলো। কিন্তু এখন রবিউলের মানবিকতায় তারা সবাই গর্বিত।
বিষয়টি জানার পর সাবিত্রী রানীর খোঁজ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। অর্থ সহায়তার পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে সমাজ সেবা অধিদপ্তর।
জেলা প্রশাসক সাবিত্রীকে দেখতে যান এবং শরীরের খোঁজখবর নেন। তাঁর চিকিৎসা ও ভরণ পোষণের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেন তিনি।
একই সঙ্গে তাঁকে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা ও সব রকমের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। রবিউলকে পুরস্কৃত করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
বাকেরগঞ্জের পৌর এলাকায় সাবিত্রী রাণীর বসতি ছিলো। এক ছেলে ভবঘুরে। তিন বছর আগে স্বামী মারা গেলে ভাইয়ের বাড়িতে তিনি থাকছিলেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী সাবিত্রীর জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ জানুয়ারি। তাঁর বাবা ভদ্রকান্ত কর্মকার এবং মা সুকুদা কর্মকার।
পক্ষাঘাতে আক্রান্ত সাবিত্রী ঠিকমতো উঠতে-বসতে পারেন না। শরীরের বাঁ পাশ অবশ বলে নড়াচড়া করতেও পারেন না অশীতিপর এই বৃদ্ধা।
একাত্তর/এআর