দিনাজপুরের মোহনপুর রাবার ড্যামটি অকেজো হয়ে যাওয়ায়, ঝুঁকির মুখে পড়েছে ছয় হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ। ড্যামটিতে ফুটো হয়ে যাওয়াতেই এই বিপত্তি।
এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চলতি বোরো মৌসুমের কয়েক হাজার কৃষক। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, রাবার ড্যামটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে দিনাজপুরের রাবার ড্যাম নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর, আজও মেরামত করা হয়নি। তাই, সেচ সংকটে দিনাজপুর সদর ও চিরিরবন্দরের ৯টি ইউনিয়নের চাষাবাদ।
এসব ইউনিয়নের প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদে সেচ সুবিধা নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন মৌসুমের কৃষকেরা। অপেক্ষায় আছেন ড্যামটি ঠিক হবার।
চাষিরা জানান, রাবার ড্যামটির রাবার নষ্ট যাওয়ায় শুকিয়ে গেছে সেচের প্রধান উৎস আত্রাই নদীর পানি। ফলে সাত হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ সম্ভব হচ্ছে না।
বোরো মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায়, এর আগে জমিতে সেচ দিতে কৃষকরা মেশিনের সাহায্য নিতে হতো। কৃষকদের কথা বিবেচনা করে ২৩ কোটি টাকা ব্যয় গত ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৩৫ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যামের উদ্বোধন করেন।
আরও পড়ুন: কৃষক হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড
দুই উপজেলার আত্রাই ও কাঁকড়া নদীর প্রায় ৪৪ কিলোমিটার সীমানার দুই পাশের হাজার-হাজার কৃষক বোরো ও আমন মৌসুমসহ অন্যান্য ফসলের জন্য সহজেই সেচের পানি এই রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে আত্রাই নদী থেকে পেয়ে থাকেন।
দিনাজপুর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজ কোচ মোহনপুর ব্রিজের গার্ডার ভেঙ্গে রাবার ড্যামের এক পাশে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়।
ওই ঘটনায় রাবার ড্যামের একটি অংশ ফুটো হয়ে যায়। বিষয়টি এলজিইডির পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফলে রাবার ড্যাম মেরামতের জন্য আজ এলজিইডির পক্ষ থেকে দরপত্র আহবান করা হয়েছে।
প্রায় ৮ বছর পর রাবার ড্যামের রাবার ফুটো হয়ে যাওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে ৭ হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদ নিয়ে কৃষকদের বাড়তি ব্যয় ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
রাবার ফুটো হওয়ায় ধরে রাখা পানি সহজেই প্রবাহিত হয়ে চলে যাচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্টদের কাছে রাবার ড্যামের ফুটো বন্ধ করে দ্রুত এই সমস্যা নিরসনের অনুরোধ জানান।
এদিকে, নদীতে পানি না থাকায় বোরো মৌসুম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন শ্যালো মেশিনের মালিকরা।
একাত্তর/এসজে