যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর চুল কেটে দিলেন স্বামী

যৌতুকের জন্য কাঁচি দিয়ে চুল কেটে দেয়ার পর গৃহপবধূকে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শাশুড়ী ও ননদের বিরুদ্ধে।

লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলার চর রমনীমোহন ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় উদ্ধারের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে স্বামী, শাশুড়ী ও ননদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন ওই নারী।

কিন্তু এঘটনার বিচার তার এখতিয়ারের বাইরে উল্লেখ করে মামলার পরামর্শ দেন। পরে পুলিশ এসে ননদকে আটকসহ নির্যাতিত নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

তিন বছর আগে লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলার চর রমনীমোহন ইউনিয়নের কাঞ্চন মিয়ার ছেলে মো: হাসানের সাথে বিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ভোলা ইলিশা এলাকার আলমগীরের মেয়ে রুমা আক্তার।

আরও পড়ুন: বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে ৬৫ বছরের বর ৫৫ বছরের কনে

রুমার অভিযোগ, তার স্বামী মো: হাসান মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি। বিয়ের পর যৌতুকের দাবি করলে প্রথমে ৫৫ হাজার টাকা এবং পরে আবার ১০ হাজার টাকা এনে দেন তিনি। পরে আবারও যৌতুকের দাবিতে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য রুমার ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তিনি অপারগতা জানালে তাকে মারধর করা হয়।

রোববার রাতে অমানসিক নির্যাতন শুরু করেন হাসান। বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে কাঁচি দিয়ে ওই গৃহবধূর চুল কেটে দেন তিনি। পরে বিষয়টি যাতে থানা পুলিশ এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে বিচার চাইতে না পেরে তার জন্য হাসান তার স্ত্রীকে বাড়ীতে বেঁধে রাখেন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের পর বিচারের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগীতা চান রুমা। এঘটনায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল রুমাকে মামলার পরামর্শ দিলে ওই নারী আইনের আশ্রয় নেন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, মেয়ে সুখে ঘর করবে বলে বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামীর নির্যাতন সইতে হচ্ছে তাকে। মেয়েকে স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে এ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে টাকা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এখন তারা আরও তিন লাখ টাকা চাইছে।


একাত্তর/টিএ