ভার্চুয়াল অচেনা প্রেমই কাল হলো মিঠুর জীবনে

নরসিংদীর প্রতারক চক্রের হাতে খুন হয়েছেন সিরাজগঞ্জের কলেজ ছাত্র মিঠু। নরসিংদীর পুলিশ সুপার জানান তারা তদন্ত করে দেখেছেন, ফেসবুকে প্রতারক চক্রের পাতা প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে অপহৃত হন মিঠু। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় অচেনা প্রেমেই কাল হয়েছে মিঠুর জীবনে। 

পরে মুক্তিপণ দিতে না পারায় তাঁকে হত্যা করে অপহরণ চক্র। মিঠুর স্বজনরা অবশ্য জানান মুক্তিপণের কথা পুলিশকে জানালেও তারা সময়মত পদক্ষেপ নেয়নি।  

সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রায়পুর মহল্লার বাসিন্দা ভূমিহীন আন্দোলনের প্রয়াত নেতা মসলিম উদ্দিনের ছেলে মিঠু হোসেন ইসলামিয়া সরকারি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষে পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা করে সংসারও চালাতেন। 

বিভিন্ন হাট থেকে শাড়ি সংগ্রহ করে অনলাইনে তা বিক্রি করতেন। ফেসবুকে নরসিংদীর দুই বন্ধুর সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে বাবুরহাটে কাপড় বিক্রির জন্য যান তিনি। সেখান থেকেই অপহরণ করা হয় তাকে। 

পরে তার ফোন থেকে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করা হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে পিটিয়ে হত্যার পর নরসিংদীর মনোহরদি উপজেলার এক দুয়ারিয়া ইউনিয়নের হুগলিয়াপাড়ায় খড়ের গাদার নিচে তার মরদেহ ফেলে রাখে অপহরণকারীরা। 

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন মিনু আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতানামা আসামিদের বিরুদ্ধে মনোহরদী থানায় মামলা করেছে।

এই মামলায় গাজীপুর শ্রীপুর এলাকার শাহনাজ আক্তার পপি (২৮), তাঁর স্বামী আবদুল বাতেন (৩৫) এবং একই এলাকার তাপন খাঁনকে (৩২) শনিবার সকালে গাজীপুর ও শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম জানান, পপি ফেসবুকের মাধ্যমে একটি প্রতারক চক্র চালাতো। দলনেতা পপির ছদ্মনাম ব্যবহার করে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েদের ছবি দিয়ে একাধিক ফেসবুক আইডি পরিচালনা করে। 

বিভিন্ন উঠতি বয়সী তরুণদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পরবর্তীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে দেখা করতে প্রলুব্ধ করে। 

তার প্রেমের ফাঁদে পড়ে দেখা করতে আসলে তার সহযোগী হানিফসহ তিন-চার জনের প্রতারক চক্রটি তাকে আটকে রেখে মারধর করে মুক্তিপণ দাবী করে।

আর এ প্রেমের টানে বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে ১৬ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী যায় মিঠু। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখতে পায় প্রেমিকা নয় এটি একটি প্রতারক চক্র। আর এ চক্র তাকে আটক করে মুক্তিপণ চায় এক লাখ টাকা।এমনকি  মিঠুর পরিবার জানায় মিঠুকে হত্যার পরও মুক্তিপণ চেয়েছে চক্রটি।  

এমনি ভাবে কলেজ ছাত্র মিঠুর সাথে ফেসবুকে বন্ধুত্ব করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত বুধবার মনোহরদিতে দেখা করার জন্য ডেকে আনে প্রতারক শাহনাজ আক্তার পপি। 

পপি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মিঠুকে তার সহযোগীদের নিকট তুলে দেয়। তারা পাশের আশুটিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় আটকে রেখে মারধর করে মিঠুর অভিভাবকদের কাছে মুক্তিপণ দাবী করে। 

মুক্তিপণের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মিঠুকে হত্যা করে তার লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মনোহরদির একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের হুগলিপাড়া গ্রামের একটি ব্যক্তির খড়ের গাদার নীচে ফেলে রাখে।

এদিকে, মিঠুর স্বজনদের অভিযোগ অপহরণের কথা জানতে পেরে মিঠুর পরিবার পুলিশকে জানালেও সঠিক সময়ে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ।