গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে দলবেধে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ছয় জনকে আদালতে তোলা হয়েছে।
রোববার বিকেল তিনটার দিকে কড়া নিরাপত্তা দিয়ে তাদের গোপালগঞ্জ জেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে নেয়া হয়। তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
আসামিরা হলো- রাকিব মিয়া (২২), পিয়াস ফকির (২৬), প্রদীপ বিশ্বাস (২৪), হেলাল সরদার (২৪), নবীনবাগের নাহিদ রায়হান (২৪) ও তূর্য মোহন্ত (২৬)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবের কাছে গণধর্ষণে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছে আসামিরা। শনিবার রাতে র্যাব তাদের গোপালগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে।
উল্লেখ্য, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী তার বন্ধুর সাথে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নবীনবাগস্থ হেলিপ্যাড থেকে হেঁটে বের হচ্ছিলেন।
এ সময় ৭/৮ যুবক একটি ইজিবাইকে তাদের তুলে নিয়ে হ্যালিপাডের পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনের বারান্দায় যায়। ওই ছাত্রীর সাথে থাকা তার বন্ধুকে মারধর ও শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণ করে।
পরে খবর পেয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধার করে। ওই ছাত্রীকে প্রথমে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যালে নেয়া হয়।
শনিকার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাজিউর রহমান গোপালগঞ্জ সদর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটা মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষকদের প্রতীকী ফাঁসি, প্রতিবাদী মিছিল
এদিকে, ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় চতুর্থ দিনের মত প্রতিবাদ ও আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকালে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
পরে, দুপুরের দিকে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে মানববন্ধন করেন।
দিনের শুরুতে সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা পূর্বের ন্যায় ধর্ষণকারীদের শাস্তির দাবি জানান।
একই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও উপাচার্যের ওপর হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনাসহ সবার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দাবি জানান।
পরে বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার মৃত্যুদণ্ড দাবি করে মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, ধর্ষক কারো আপন হতে পারে না। যারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত তাদের মৃত্যদণ্ড হওয়া উচিত।
এরপর, দুপুর ১২ টার দিকে ধর্ষকের প্রতিকী ফাঁসি এবং প্রতিবাদী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এ মিছিল পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।