চোখে আলো নেই, আছে প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর উদ্যম। সে সঙ্গে আছে পথ দেখানোর কিছু মানুষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আছমাতুন্নেছা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাত্রাবাস এমনই এক আশা জাগানিয়ার নাম।
শ্রবণ আর স্পর্শ শক্তি দিয়ে সাধারণ শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে অর্থ সংকটে মাঝে মাঝে থমকে যাচ্ছে এর কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে দরকার সহযোগিতার হাত। এজন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা।
শুরুটা ১৯৭৪ সালে। একটি চক্ষু শিবির থেকেই অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে আসে। চলতে থাকে পরিকল্পনার পর সেটি বাস্তবায়নের কাজ।
অবশেষে তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মুন্সেফ পাড়ায় বাড়ি ভাড়া করে অন্ধদের জন্য শুরু হয় ২০ আসনের এই ছাত্রাবাস।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের এনে ব্রেইল পদ্ধতিতে শুরু হয় লেখাপড়া। শিক্ষার পাশাপাশি তাদের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে লেখাপড়া করছে এখানে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নেন তারা।
আরও পড়ুন: হার না মানা তৃতীয় লিঙ্গের শোভার গল্প
ছাত্রাবাসের সুপারিনটেনডেন্ট সুমন চন্দ্র সরকার বলছেন, এখানকার ১০ জন শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়ার খরচের জন্য এখনও বিভিন্ন জনের সহায়তার উপর নির্ভর করতে হয়।
তিনি জানান, স্থায়ীভাবে আয়ের কোন উৎস হলে সবচেয়ে ভালো হয়। তা নাহলে সমাজের বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহবানও জানিয়েছেন তিনি।
১৯৭৮ সালে চার শতক জায়গা নিয়ে স্থায়ী ছাত্রাবাসের ভিত্তি গড়ে তোলা হয়। তবে এখন ১৫ শতক জায়গায় তৈরি হচ্ছে তিন তলা আছমাতুন্নেছা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছাত্রাবাস।
একাত্তর/আরএ