শেষ পর্যন্ত উড়াল দিলো ১৯টি শকুন। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া জাতীয় উদ্যানে পরিচর্যা শেষে অবমুক্ত করা হয় বিলুপ্ত প্রজাতির শকুনগুলি।
এর আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করে চলে তাদের চিকিৎসা আর পরিচর্যা। শকুন ছেড়ে দেয়ার খবরে ছুটে আসেন আশেপাশের মানুষ। তারা সবাই এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
শনিবার দুপুরে দিকে সিংড়া জাতীয় উদ্যানের শালবনে চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে ১৯ শকুনকে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেয়া হয়।
ছেড়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারো মুক্ত আকাশে ডানা মেলে প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসাবে পরিচিত শকুনগুলো। আর সেই দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন আশেপাশের এলাকার মানুষ।
চার মাস আগে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে অসুস্থ ও মৃতপ্রায় শকুনগুলোকে নিয়ে আসা হয় বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া জাতীয় উদ্যানে।
পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, উত্তরের হিমালয় থেকে খাদ্যের সন্ধানে এসে অসুস্থ হয়ে লোকালয়ে আছড়ে পড়েছিলো এই ১৯টি শকুন।
কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সারোয়ার আলম দীপু জানান, শীত হলেই শকুনরা হিমালয়ের পাদদেশ থেকে এসব অঞ্চলে চলে আসে। মূলত খাদ্যের অভাবেই তারা অসুস্থ হয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে এখন শকুনের দেখা একেবারেই মেলে না। সাধারণত শকুন ভারত ও নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে।
সেখানে খাদ্যের অভাব দেখা দিলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় চলে আসে। বিভিন্ন সময় দুর্বল হয়ে মাটিতে পড়ে যায় অনেক শকুন।
এতে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় অনেক শকুন উদ্ধার হয়। এর মধ্যে যেসব শকুন প্রাথমিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয় আকাশে।
আর যেসব শকুনের সুস্থ হতে দীর্ঘমেয়াদী সময় লাগে তাদের শকুন চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের অবমুক্ত করে দেয়া হয় মুক্ত আকাশে।
এভাবেই গত আট বছর ধরে কাজ করছে সিংড়া জাতীয় উদ্যানের শকুন চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্র। এটিই দেশের একমাত্র শকুন চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্র।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে সিংড়া জাতীয় উদ্যানে শকুন চিকিৎসা ও পরিচর্যা কেন্দ্র ১৯ শকুনকে অবমুক্ত করেছে। এর আগেও চলতি বছরে বিভিন্ন সময়ে ১৩ শকুন অবমুক্ত করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইকবাল আব্দুল্লা হারুন।
আরও পড়ুন: আবারও বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম
এদিন ২টি শকুন মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এরপর বাকি শকুনগুলোকেও পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করা হয়।
২০১৪ সালে বন বিভাগ ও আইইউসিএন এর যৌথ উদ্যোগে এই কেন্দ্রটি চালু করা হয়। এখন পর্যন্ত ১৪৯টি শকুন অবমুক্ত করা হয়েছে এই কেন্দ্র থেকে।