২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর। সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার ডাকার নিয়ম আর নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের ভাই ও আপা ডাকা যাবে। এখন পুরুষ অফিসারদের জনাব বা মিস্টার, নারী অফিসারদের মিস অথবা ম্যাডাম বা এমএস লিখতে পারেন, কোনো অসুবিধা নেই।
এরপর ২০২৫ সালের ১০ জুলাই সরকারি নারী কর্মকর্তাদেরও ‘স্যার’ সম্বোধনের নির্দেশনা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। সেদিন ওই খবর জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকেরা আগেও বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন বাধ্যতামূলক নয়। কেউ ‘আপা’ বা ‘ভাই’ বললেও আপত্তির কিছু নেই। তবে অভিযোগ, এমনটি মেনে নেন নাই দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গত পাঁচ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। পরে ‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সংবাদিকদের অভিযোগ, ওই সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়ে ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সদের উদ্যোগে মানববন্ধন করিয়েছেন। যদিও তিনি নিজে এতে উপস্থিত ছিলেন না।

হাসপাতালে আসা বেশ কয়েকজন রোগীর অভিযোগ, এক ঘণ্টা হাসপাতালে সেবা বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহান তারা। রোগীদের সেবা বন্ধ করে মানববন্ধন কেন? সংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মুঠোফোনে ডা. রবিনের সাফাই, ওইদিন বৃষ্টি থাকায় রোগী কম ছিলো। আর আমার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রকাশ হয়েছে বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের উদ্যোগে মানববন্ধন করেছেন। আমি কিছু করি নাই।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গত পাঁচ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। পরে ‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এরপর প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনের সময় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় হাসপাতালে আসা রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন উপস্থিত কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাগত সৌজন্যের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। অতীতে এ দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাই তথ্য বা সাক্ষাৎকার দিতে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করাকে বাধ্যতামূলক করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, আমি সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় অবস্থান করছি। আমাকে মানববন্ধনের একটু আগে না জানানো হয়েছে। এটি আমার নির্দেশে হয়নি।
তিনি অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমার জানা মতে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ ছিলো না। তখন বৃষ্টি হওয়ায় রোগীর উপস্থিতিও কম ছিলো। আমার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রকাশ হয়েছে বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের উদ্যোগে মানববন্ধন করেছেন।
এ ব্যাপারে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কে কীভাবে সম্বোধন করবেন, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়। তবে মানববন্ধনের বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেননি।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তার প্রতিবাদ জানাতে হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর কোনো প্রতিষ্ঠানের সেবা কেন ঘণ্টা ব্যাপী বন্ধ থাকবে? আর রোগী কম নাকি বেশি এটি বিবেচনা করে কোনো হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকতে পারে কি? সেটি হয়তো সংশ্লিষ্টরাই ভালো জানেন।
