নকশার দুর্বলতায় ভাঙছে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ

নকশার দুর্বলতার কারণেই প্রতি বছর ভাঙছে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ। নকশা অনুযায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণে মোট আটটি সমস্যা পেয়েছে জাইকা। 

এরপর নিজেরাই নতুন নকশা তৈরি করে বাঁধ নির্মাণ করে জাইকা। সেই বাঁধগুলোতে এ বছর কোন ভাঙন দেখা দেয়নি। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধগুলো ভাঙছে প্রতি বছরই। 

২০১৪ সালে ২৯টি হাওর নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে বন্যা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রকল্প হাতে নেয় জাইকা। বোর্ডের নকশা মতো মাটি দিয়ে তৈরি হয় ডুবো বাঁধ। 

কিন্তু নির্মাণের পর দুই বারের পাহাড়ি ঢলে সেই বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি কৃষকের জীবনে আসে অমানিশ অন্ধকার। 

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে বাঁধ ভাঙার আটটি কারণ বের করে জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। জাইকা বলছে পানির সাথে বাঁধের উচ্চতা, ঢেউয়ের উচ্চতা, নদীর প্রশস্ততাসহ আটটি সমস্যার সমাধান না করলে বাঁধ টিকবে না।  


পরে নিজেদের নকশায় হাওরে কিছু বাঁধ নির্মাণ করে জাইকা। যাতে ব্যবহার করা হয় সিসি ব্লক, জিও ব্যাগ, সিঙ্গেলস ফিল্টার, জিও শিট, টার্ফিং ও জিও ফিল্টার। এভাবে তৈরি করা জাইকার বাঁধগুলো এবারের পাহাড়ি ঢলেও ভাঙেনি। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের উচ্চতা ১২ ফুট। আর জাইকার বাঁধ ১৪ ফুট। এছাড়া পানি নিষ্কাশন ও নৌ চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে কজওয়ে এবং ফ্লাড ফিউজ। 

আরও পড়ুন: হৃদয় মণ্ডলের ঘটনায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলছে

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ বলছেন, হাওরের বাঁধ নির্মাণের মাস্টার প্লান হয়েছে ২০১১-১২ সালে। কিন্তু এতো দিনে পাল্টে গেছে হাওরে চরিত্র, পরিবেশ ও জলবায়ু। তাই মাস্টার প্লান পাল্টানোর কথা বলছে বোর্ড। 


একাত্তর/এসি