পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয়েছেন ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. ইউছুফ মৃধা (৫৬)।
শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) রাত সোয়া দশটা থেকে ১১টার মধ্যে এক নম্বর ব্রিজ বাজার দোকান থেকে বাড়ি বাড়ি ফেরার পথে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ডালক্ষেত থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার রাত ১২টা ১০ মিনিটে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসী জানান, ইউছুফ মৃধা ওই এলাকার মৃত ইসমাইল মৃধার ছেলে। স্ত্রী ও তিন মেয়েসন্তান রয়েছে তার।
হত্যাকারীদের কেউ শনাক্ত করতে না পারলেও বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
নিহতের বড় মেয়ে ঈশিতা জানান, প্রতিদিন রাত দশটায় এক নম্বর ব্রিজ বাজার এলাকার ওষুধের দোকান বন্ধ করে রাত সাড়ে দশটার মধ্যে তার বাবা ইউছুফ মৃধা প্রায় এক কিলোমিটার দুরে বাড়ি ফিরতেন। এদিন রাত ১১টায়ও বাড়ি না ফেরায় এবং মোবাইল বন্ধ থাকায় বাবাকে খুঁজতে তিনি ও বাড়ির অন্যরা বাইরে বের হন।
রাত ১১ টা ৪০ মিনিটে বাজারে যাওয়ার পথে ডালক্ষেতের মধ্যে উপুড় হয়ে পড়া থাকা ইউছুফ মৃধার রক্তাক্ত দেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১২ টা ১০ মিনিটে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে পৌছলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা দেন।
জরুরী বিভাগের ব্রাদার জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তির মাথার পিছনে, মুখে ও হাতে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ইউছুফ মৃধাকে কুপিয়ে যেখানে ফেলে রাখা হয় সেখানে রক্তের জমাটের মধ্যে তার চশমাটাও পড়েছিলো। তার হাতের টর্চলাইটের ভেঙ্গে যাওয়া অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিলো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, রাত একটায় খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ইউছুফ মৃধা নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে বাড়ির কিছু অংশীদারের সাথে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধীয় জমি মাপার কাজ শেষে শনিবার (১৬ এপ্রিল) সালিশের রায় দেয়ার কথা ছিলো।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানজানান, ইউছুফ মৃধাকে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। জমিজমা নিয়ে না অন্য কোন বিষয় নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে তা তদন্ত করার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
একাত্তর/এসজে