৪২ লাখ টাকায় নতুন হাইএস গাড়িটি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট নিশ্চিন্তপুর ১নং গেইট এলাকার আনু মিয়ার ছেলে কামাল হোসেন কিনেছিলেন গত ৫ এপ্রিল।
বন্দর থেকে গাড়িটি আনার পর গত ১৪ই এপ্রিল প্রথম ভাড়াটি ঠিক করেন গাড়ির চালক কামাল হোসেনের ভাই মনির হোসেন। সেদিন বিকেলে নিশ্চিন্তপুর মাইক্রোবাসস্টাণ্ডে এসে তিন ব্যক্তি ঢাকায় যাবেন বলে গাড়িটি ভাড়া করেন। এরপর ক্যান্টনমেন্ট থেকে রওনা হয়ে মুন্সিগঞ্জ এলাকার মহাসড়কে পৌঁছলে আরেক ব্যক্তিকে গাড়িতে তোলেন যাত্রীরা। রাতের ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে গাড়িটি।
এক পর্যায়ে রাত গভীর হলে গাড়ি চালককে গাড়ি থামাতে বলে। যাত্রী বেশে গাড়িটি ভাড়া নেয়া তিনজন চালক কামাল হেসেনকে পেছনের সিটে এনে মারধর করে অচেতন করে হাত-পা বেঁধে ফেলে দেয় রাজধানীর বাড্ডার এলাকার নির্জন কোন জায়গায়।
মৃত ভেবে সেখানে কলাপাতা দিয়ে আবর্জনার স্তূপে ঢেকে গাড়িটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায় গাড়ি ছিনতাই চক্রের সদস্যরা।
পরে স্থানীয় কয়েকজন ময়লার স্তূপে কামালকে দেখতে পেয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুটা সুস্থ হলে বাড়ির লোকজনকে বিস্তারিত জানালে তারা ঢাকায় হাসপাতাল থেকে তাকে নিয়ে আসে কুমিল্লায়।
এরপর বিস্তারিত জানানো হয় কোতোয়ালি থানা পুলিশকে, মামলা করা হয়।
নাজিরা বাজার ফাঁড়ি ইনর্চাজ ইন্সপেক্টর মুহিবুল্লাহসহ কোতয়ালি থানা পুলিশের একটি টিম টানা ৫ দিন নিরলসভাবে কাজ করতে থাকে।
কুমিল্লা থেকে ঢাকার সড়কের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে শেষে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৯ এপ্রিল গাড়ি ছিনতাই চক্রের অন্যতম সদস্য অনিক সূত্রধর প্রকাশ আবিরকে (২৭) আটক করা হয় নারায়ণগঞ্জ থেকে। এরপর তার দেয়া তথ্যমতে চক্রের আরেক সদস্য মুন্সিগঞ্জ লৌহজং থানা এলাকা থেকে সেলিম হাওলাদারকে (৪২) আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘর্ষ, একজন নিহত
ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িটির সন্ধান জানায় তারা। পরে লৌহজং থানা এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
তবে ৪২ লাখ টাকায় কেনা নতুন গাড়িটি তখন চেনার উপায় নেই। দশ বারো টুকরো করা হয়েছে গাড়িটিকে মূল্যবান কিছু মালামাল এরিমধ্যে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। গাড়ি উদ্ধার হলেও বিক্রি হওয়া অংশগুলোর সন্ধান মেলেনি।
২০ এপ্রিল সকালে আসামিসহ ছিনতাইকৃত গাড়িটি কুমিল্লায় আনা হয়। চক্রের দুই সদস্য আটক হলেও মুল হোতা নারায়ণগঞ্জ জেলার ফাহিম প্রকাশ রিপন (২৮) ও মুন্সিগঞ্জ জেলার জাহাঙ্গীর নামে অপর দুই সদস্য পলাতক রয়েছেন।
ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যসহ গাড়িটি উদ্ধার করে নিয়ে আসার পর জিজ্ঞাসাবাদের সকল অপরাধ স্বীকার করে অনিক ও সেলিম হাওলাদার।
নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশের আইসি মুহিবুল্লাহ জানান, অভিযোগ পেয়ে কুমিল্লা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় টাকা ৫ দিন অভিযান চালানো হয়। অপরাধীদের শনাক্ত করার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত দুইজনকে আটক করা হয়।
সংঘবদ্ধ গাড়ি চোর চক্রের এই সদস্যরা কৌশলে গাড়ি ভাড়া নিয়ে ছিনতাই করে থাকে।
আটককৃতরা দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যোগ করেন মুহিবুল্লাহ।
একাত্তর/আরএ