ঘাটের আধুনিকায়নও হয় না, মানুষের আতঙ্কও কাটে না

এবারের ঈদেও আধুনিক পারাপারের সুবিধা পেলেন না রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের যাত্রীরা। এনিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের অভিযোগ নকশাবন্দি হয়ে আছে ঘাট আধুনিকীকরণ প্রকল্প। এরই মধ্যে নতুন করে লঞ্চঘাট এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। আতঙ্ক বাড়ছে পদ্মাপাড়ের মানুষের।

ফাইল চালাচালি ও বুয়েটের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আটকে আছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌবন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ। এ কাজের অপেক্ষায় ভাঙন প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও এখন আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ইউনিয়নের নালু মণ্ডলের পাড়া এলাকার মমতাজ বেগম পাঁচ সন্তান নিয়ে থাকছেন রাস্তার পাশে। কারণ শেষ সম্বল চার শতাংশ জমির উপরে একচালা টিনের ঘরও এবার ভেসে গেছে। এর আগেও পদ্মায় দু'বার গেছে বসতবাড়ি।

শুধু মমতাজ বেগম নয়, তার মতো অন্তত আরো আড়াইশ’ পরিবার আছে ভাঙন আতঙ্কে। তারা জানায়, গত চার বছরে প্রতি বছরই মাপঝোঁক করাসহ নানা কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততা দেখা যায়, কিন্তু অবস্থা একই থাকে। আধুনিক ঘাটের আর দেখা মেলে না।

তাদের অভিযোগ, জিও ব্যাগ ফেলা ছাড়া বিআইডব্লিটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সারা বছর আর কোন কাজ থাকে না। ভাঙন বন্ধের স্থায়ী কোন ব্যবস্থাও নেয়া হয় না। এনিয়ে দাবি জানাতে জানাতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

ক্ষোভের সঙ্গে এলাকাবাসী বলেন, প্রতি বছরই মাপ নেয়া হয় কিন্তু হয় না কাজ। গত চার বছর যাবত স্থায়ী কাজ হবে শোনা যাচ্ছে কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। বিআইডব্লিটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তাদের স্বার্থ হাসিলে পানি বেড়ে গেলে শুধু জিও ব্যাগ ফেলে।

এনিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান অঙ্কুর। বলছেন, গত বছরের জানুয়ারিতে ৬৮০ কোটি টাকা পাশ হয়েছে ঘাটের কাজের জন্য। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় ও নকশার পরিবর্তন হওয়ায় নতুন করে সাড়ে বারোশ’ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। যা বুয়েটে পরীক্ষা চলছে। এ বছরের ভাঙনরোধেও জিও ব্যাগ ফেলা হবে, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয় বলেও মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন: টাকা না দিয়ে আট পাঞ্জাবি নেয়ার পর ফেরত দিলেন তিন ছাত্র

গত বছরের বর্ষা মৌসুমে দৌলতদিয়ার অন্তত তিনশ’ বসতবাড়িসহ বিলীন হয়েছে বহু স্থাপনা। কয়েকবার সরিয়ে নিতে হয়েছে লঞ্চ ও ফেরিঘাট।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় এক হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ)।


 একাত্তর/আরবিএস