মাছের খামার বাঁচাতে বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ায় ভাসলো ফসল

মাছের খামারে পানি ঢুকে যাওয়ায় নেত্রকোনার খালিয়াজুরির মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর নন্দের পেটনা ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছে খামারের ইজারাদাররা। ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দেয়ার ফলে হাওরাঞ্চলে পানি ঢুকে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি।

কৃষকের অভিযোগ, পেটনা ফসল রক্ষা বাঁধের পাশের একটি মাছের খামারে বাঁধ কেটে পাইপ দিয়ে পানি দিচ্ছিলো ইজারাদাররা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটা বন্ধ করে বাঁধটি মেরামত করেন। কয়েকদিন ধরে ধনু নদীর পানি কমতে থাকায় সোমবার আবারো বাঁধটি কেটে ফেলা হয়।

কৃষকরা আরও জানান, পেটনা ফিশারিতে পানি প্রবেশ করানোর জন্য বাঁধটি সোমবার গভীর রাতে মেন্দিপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হেকিম ভেঙে দেন। এরপর এলাকার কৃষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যানকে ধাওয়া করলে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পরে তার মোটরসাইকেল বাঁধের ভাঙা অংশে ফেলে দেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। 

তারা আরও জানায়, এটি পুরনো ধনু নদের পাশের বিল। নদের পানি আসার কথা না। স্রোত কম এদিকে। কিন্তু মাছ চাষের জন্য বাঁধটি ভেঙে দেয়ায় মদন পর্যন্ত টানের জমিগুলো ডুবে যাবে। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কোনো রকমে বাঁধটি আটকে ছিল। 

আর এখন নিজেরা কেটে দিয়ে কৃষকদের ফসল ডুবিয়ে দিল। এই ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন কৃষকরা। ঘটনা সম্পর্কে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হেকিমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে সাংবাদিকরা। তিনি ফোন ধরেন না।  

পরে হাওরাঞ্চলে পানি ঢুকতে থাকলে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড আবারো মেরামত কাজ শুরু করে। তারা আরো জানান, পানি আটকতে না পারলে খালিয়াজুরি, মদন ও কিশোরগঞ্জের ইটনার হাওরগুলোর কয়েক হাজার একর ফসল তলিয়ে যাবে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল  সৈকত জানান, এটি পেটনার বাঁধ। গত বছরের পুরনো। এটি ভাঙার কোনো কারণ ছিলো না। পুরনো ধনুর পাশের বাঁধ এটি। মাছের খামারে পানি দেয়ার জন্য বাঁধটি ভেঙে ফেলেছে। বাঁধটি মেরামতের কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, খালিয়াজুরিতে এরই মধ্যে ৮০ ভাগ ধান কেটে নেওয়া হলেও এখনো কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান আধা পাকা থাকায় কাটা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় হাওরে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


একাত্তর/এসি