স্কুলছাত্রীকে চতুর্থ বিয়ের চেষ্টা, বর কারাগারে

সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে চতুর্থ বিয়ে করতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ডের মুখে পড়েছেন ৩২ বছরের বর হেলাল উদ্দীন ও কনের বাবা সোহরাব হোসেন। 

রোববার (৮ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাহারবাটি গ্রামের এনামুল হকের ছেলে হেলাল উদ্দীন (৩২) চতুর্থ বিয়ে করতে যান মোহম্মদপুর গ্রামের মানিকনগর পাড়ার সোহরাব আলীর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে। 

শনিবার (৭ মে) গভীর রাতে কাজী ডেকে বিয়ে দেবার চেষ্টা করে উভয় পরিবার। কিন্তু কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাতে রাজি হননি ঐ কাজী। পরে বর ও কনেকে একটি গাড়িতে তুলে অন্য কোন জায়গায় নিয়ে মৌলবি দিয়ে বিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করেন তারা। 

বাড়ি থেকে গাড়ি বের হলে পথে গতিরোধ করেন মেয়ের চাচা সাইদুল ইসলাম। বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে চেষ্টা করেন ভাতিজির বাল্যবিয়ে বন্ধের। কিন্তু কোন সাড়া মেলেনি। অবশেষে জরুরী সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল করে সহায়তা চান তিনি। 

এর কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থলে হাজির হয় কুমারীডাঙ্গা ক্যাম্পের পুলিশের একটি দল। পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় বর হেলাল উদ্দীন, বরের বাবা এনামুল হক ও কনের বাবা সোহরাব হোসেনকে। কনেকে পৌঁছে দেওয়া হয় বাড়িতে। 

রোববার দুপুরে তাদের হাজির করা হয় গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কনের বাবা সোহরাব হোসেনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও বর হেলাল উদ্দীনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


একাত্তর/জো