সুনামগঞ্জেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সুরমা, যাদুকাটা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সদর উপজেলা থেকে শুরু করে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
এর ফলে শহরের নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ ফসলি জমি।
পানিতে ভেসে গেছে সদর ও দেয়ারাবাজার উপজেলার বহু পুকুরের মাছ। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, গোয়ারা বাজার, তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার ২১৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
২৮টি বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। পানি ওঠায় জেলার ছাতক-সুনামগঞ্জ-সিলেট, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, এবং সুনামগঞ্জ-হালুয়াঘাট-সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর, নবীনগর, ধারারগাও, জেলরোড, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া ও বড়পাড়া এলাকার সড়ক ও কিছু ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে।
সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের ইব্রাহিমপুর, সদরগড়সহ নদী তীরের গ্রামগুলোর নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি পানিতে ভাসছে। ছাতক, তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ ছাতক সড়কে পানি ওঠায় ছাতকের সঙ্গে সারাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে এবং জেলা শহরের সাথে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একমাত্র সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, মেঘালয় চেরাপুঞ্জির বৃষ্টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিপর্যস্ত লাখো মানুষ
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরস্থ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তাহিরপুরের যাদুকাটাসহ অন্যান্য নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একাত্তর/এসি