পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে বাড়ি লুটের পর আহতদের নামে মামলা

জামালপুরের সরিষাবাড়িতে তিন নারীসহ ছয়জনকে পিটিয়ে আহত করে চিকিৎসা না দিয়ে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হলে বাড়িঘরের মালামাল লুটে নিয়ে উল্টো আহতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ঐ প্রভাবশালী।

শুক্রবার (২০ মে) উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চররৌহা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার (২১ মে) বিকেলে আহতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ঐ প্রভাবশালী।

সরিষাবাড়ি থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মজিদ জানান, উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর রৌহা গ্রামের মৃত মকর আলীর ছেলে বিপুল মিয়া। তার ৬০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে আসছিলেন প্রতিবেশী মেছের আলী। 

চলতি বোরো মৌসুমে জমির ফসল দিতে অস্বীকৃতি জানান বর্গাচাষী মেছের আলী। এ নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে শুক্রবার (২০ মে) সকালে বিপুল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আবারও বর্গাচাষী মেছের আলীর বাড়ী গিয়ে পাওনা ফসল দাবি করেন। 

এতে বিপুল মিয়া ও মেছের আলীর মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় মেছের আলীর লোকজন বিপুল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে মেছের আলী ও তার লোকজন আহত হেলেনা বেগম, মরিয়ম বেগম, বিলকিস বেগম, শান্ত, বিপুল মিয়া ও সুমন মিয়াকে একটি ঘরে তালা লাগিয়ে আটকে রাখেন।  

খবর পেয়ে সরিষাবাড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ঘর থেকে আহতদের উদ্ধার করে সরিষাবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করতে শনিবার বিকেলে ঐ এলাকায় গিয়ে আহতদের বাড়িঘরের মালামাল লুটে নেওয়ার সত্যতা পান এস আই আব্দুল খালেক। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারিনি। 

 

একাত্তর/এসজে