সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে। তবে দুর্গতদের ত্রাণের সঙ্কট কাটেনি। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় ত্রাণ কম।
তাই বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়া মানুষকে ত্রাণ দেয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা বলছেন, একদিকে ত্রাণ নেই, অন্যদিকে টাকার অভাবে ঘরও মেরামত করতে পারছেন না।
সিলেটে বন্যাদুর্গত মানুষ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে। কর্মহীন হয়ে পড়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
দুদিন আগে ঘরে ফিরেছেন ছাতকের পাতারিপুর গ্রামের এক মা-ছেলে। বন্যায় ঘরের চারপাশের মাটি সরে গেছে। ঘরে স্যাঁতস্যাতে অবস্থা। তাই সেটি বসবাসের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।
মা-ছেলে দুজনেই বলছেন, ঘরে পানি ওঠায় অন্যের বাসায় আশ্রয় নেন তারা। বানে ভেসে গেছে ঘরের অনেক আসবাবপত্র। চাল-ডালতো জোটেইনি। ঘর ঠিক করার টাকাও নেই হাতে।
পুরো হাওরাঞ্চলেই এখন বসতবাড়ি ঠিক করার যুদ্ধ। কারণে বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি। পাশাপাশি খাবার জোগানের চিন্তা। এখনও অনেকের তিন বেলা খাবার জুটছে না।
এক সপ্তাহ ধরে অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে আছেন। কেউ ত্রাণ নিয়ে গেলে ভিড় করছেন বানভাসী মানুষ। এক মুঠো ত্রাণের আশায় চলছে হুড়োহুড়িও।
ব্যক্তি পর্যায়ে ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার দেয়া হলেও সরকারি পর্যায়ে এলাকার মানুষ ত্রাণ পাননি বলে তার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।
সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়ন ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে মিলেছে ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ।
সিলেট নগরের কানিশাইলসহ কয়েকটি এলাকার বন্যার্ত লোকজন জানিয়েছেন- শুকনো খাবার খেয়ে তো বেশিদিন থাকা যায় না।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরাও বলছেন, মানুষের অভিযোগ সত্য। জেলা প্রশাসন থেকেই চাহিদার চেয়ে ত্রাণ কম দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে বলেও এই সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না।
এদিকে, সুনামগঞ্জে পানি নামতে শুরু করলেও নানা দুর্ভোগে আছে সাধারণ মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে বহু এলাকার মানুষ ঘরে ফিরতে পারছেন না। পচা পানির দুর্গন্ধে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে যাওয়া রাস্তায় চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
বন্যায় সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের পানাইল সেতুসহ তিনটি সেতু ও একটি রাবাররড্যাম ধসে গেছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে গেছে বহু রাস্তা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ছাতক, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ সদর এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রাস্তাঘাট। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে রাস্তা আরো ভাঙার আশঙ্কা করছেন তারা।
১৩ মে থেকে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি শুরু হয়। এতে নদ নদীর পানি বেড়ে পানি লোকালয়ে পানি ঢুকে ভেঙে যায় বিভিন্ন সড়ক, কালভার্ট ও সেতু।
একাত্তর/এআর