ইভিএম নিয়ে খুশি কুমিল্লার প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা

ইভিএম কিভাবে কাজে করে এবং নির্দিষ্ট বুথের ভোটার তথ্য কিভাবে ভোটিং মেশিন দেয়া হয়, সেটি হাতে কলমে দেখলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা।

ইভিএম মেশিনের কার্যকারিতা দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারা। আর, ইভিএম সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এই মেশিনে কোনোভাবেই কারচুপি বা ফল পাল্টে দেয়া সম্ভব হবে না।

১৫ জুন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সেখানে সব কটি কেন্দ্রে ভোট হবে ইভিএম-এ। এ জন্য দরকার হবে এক হাজার ৫০০ ভোটিং মেশিন।

কিন্তু কিভাবে এই মেশিন কাজ করে, ভোটের চূড়ান্ত ফল কিভাবে আসে, কিংবা সেই ফলে কোন কারচুপি করা সম্ভব কিনা, বিষয়গুলো হাতে কলমে বুঝে নেন প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা।

সোমবার (৩০ মে) ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন- ইভিএম দেখতে নির্বাচন কমিশনে আসেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা।

সকাল সাড়ে ১০টায় দিকে নির্বাচন কমিশনে ইভিএম’র কাস্টমাইজেশন পর্যবেক্ষণ করেন তারা। এ সময় ইভিএম হাতে নিয়ে ওলটপালট করে দেখেন তারা এবং বিভিন্ন তথ্য জানতে চান।

কুমিল্লা ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মনিরুল আলম ইভিএম দেখে বলেন, এতে একজনের ভোট আরেকজন দেয়া সম্ভব না। ভোট দেয়া অনেক সহজ। অল্প সময়ে ভোট দেয়া যাচ্ছে।

এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণে কারচুপির সেরকম সম্ভাবনা দেখেননি তিনি। তার কাছে মনে হয়েছে এই যন্ত্রের মাধ্যমে কারচুপি করা সম্ভব না। তবে শতভাগ সন্তুষ্ট সেটা তিনি জানেন না।

৬নং ওয়ার্ডের প্রার্থী আমিরুল ইসলামের প্রতিনিধি বলেন, ইভিএম নিয়ে আমরা এতদিন শঙ্কায় ছিলাম। ইভিএম দেখে মনে হচ্ছে, এটির নিরাপত্তা বেশি।

এনআইডির সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন নিজেই প্রার্থীসহ প্রতিনিধিদের ইভিএম’র বিষয়ে নানান প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। যে কোনো প্রশ্নই হাতে-কলমে দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, সবাইকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, ইভিএমে একজনের ভোট আরেকজন কোনভাবেই দিতে পারবে না। তাদের সার্বিকভাবে সহায়তা করেছি। ডেমো ভোট দিয়ে বুঝিয়েছি।

তিনি জানান, ১৩ জুন এই সিটির ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেয়া শেখানো হবে। এজন্য কুমিল্লা সিটির সব কেন্দ্রেই মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা হবে।

সেদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে মক ভোটিং। মক ভোটিংয়ে সব প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার উপস্থিত থাকবেন।

আর, মক ভোটিং শেষে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ইভিএমসমূহ উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে বুঝিয়ে দেবেন বলেও জানান, এনআইডি’র এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: তরুণীকে হেনস্তা করার পর পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন শিলা

ইভিএমের পরীক্ষা করে দেখানোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত কোন প্রকৌশলী বা টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গেও ইভিএম নিয়ে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। ইভিএম নিয়ে মানুষের মধ্যে যে সন্দেহ ও অনাস্থা আছে সেটি দূর করার চেষ্টা করবে কমিশন।

তিনি জানান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সব কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকে ভোটের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে। তাই এই নির্বাচনে কোন প্রার্থী বা দলের প্রভাব বিস্তারের কোন সুযোগ থাকবে না।

একাত্তর/আরএ