আগুন লাগার সাথে সাথে বাবাকে ফোন করেছিলেন মোবিনুল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুনে এ পর্যন্ত পাঁচ ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন সনাক্ত হলেও অন্যদের সনাক্ত করা যায়নি। 

এছাড়া আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন দেড় শতাধিক মানুষ। এদিকে এখনো নিখোঁজদের খোঁজে হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন তাদের স্বজনরা। 

সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে বিকট শব্দে কনটেইনারে আগুন লাগার সাথে সাথেই নিজের বাবাকে ফোন করেছিলেন মোবিনুল। জানান তার শরীরও যেন পুড়ে যাচ্ছে।

সন্তানের কাতর কণ্ঠের আওয়াজ শুনেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন পিতা ফরিদুল আলম। কিন্তু সন্তানকে আর জীবিত পাননি পিতা।

সদ্য মহসিন কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক পাশ করে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করা মুবিনিলের এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

এদিকে রাত ১২টার পর থেকে হাসপাতালে আসা বিস্ফোরণে দগ্ধ আহত ও নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। বাড়তে থাকে এম্বুলেন্সের সারি।

আহতরা জানান, কনটেইনার বিস্ফোরণ ঘটার সময় ডিপোতে কাজ করছিল শত শত লোডিং-আনলোডিং এ নিয়োজিত কর্মী ও পণ্য পরিবহন কর্মীরা৷

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াস হোসেন জানান, বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন ফায়ার কর্মী-পুলিশসহ দেড় শতাধিক মানুষ।

ডিপোর কনটেইনার বিস্ফোরণের আগুন নির্বাপণ করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে অদম্য ফায়ার কর্মী মনিরুজ্জামানেরও।


একাত্তর/এসজে