কুমিল্লায় প্রচার শেষে ভোটের প্রস্তুতি, নিরাপত্তার চাদরে নগরী

শেষ হলো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রচার-প্রচারণা। সেই সঙ্গে শুরু হলো ভোট নেয়ার প্রস্তুতি। মঙ্গলাবার শেষে বুধবার সকাল থেকেই ভোট উৎসবে মেতে উঠবে কুমিল্লাবাসী।

আর কুমিল্লার নগরপিতা নির্বাচনে ভোটের উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন। 

নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটের দিন যেখানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হবে, সেখানেই ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে। 

এদিকে, নির্বাচনের আগে ইভিএমএ ভোট দেয়ার প্রশিক্ষণ শেষে ভোটাররা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে ভোট দেয়া সহজ। তবে বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিলো।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট দেয়ার প্রশিক্ষণের জন্য সোমবার ১০৫টি কেন্দ্রে মক ভোটের আয়োজন করে ইসি। ১০টার পর যারাই কেন্দ্রে এসেছেন তারাই মক ভোট দিয়েছেন।


তবে, মক ভোটিংয়ে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। নগরীর সবচেয়ে বড় ভোট কেন্দ্র কুমিল্লা হাই স্কুলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেখা যায় ভোটার শূন্য কেন্দ্র।

অন্যান্য বড় কেন্দ্রে্ও ছিলো একই চিত্র। তবে যারা মক ভোটিংয়ে অংশ নিতে এসেছেন তাদের সবাই জানিয়েছেন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেয়া অনেক সহজ। সময় কম লাগে। 

এদিকে সোমবার রাত আটটায় শেষ হয়েছে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার। শুরু হয়েছে কেন্দ্রে কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করার কাজ। 

১০৫ কেন্দ্রে শুধু পুলিশ সদস্যই নিয়োজিত থাকবে তিন হাজারের বেশি। এছাড়া সাদা পোশাকের পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরাও থাকবেন কেন্দ্র পাহারা ও টহলে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি ভোট উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে পুরো নগরী। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ভোটের দিন বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে দেয়া হবে না। এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে ভোটের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত। 

তিনি আরও জানান, ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে কুমিল্লা সিটিতে। এছাড়া ২৭ ওয়ার্ডে ২৭ জন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে থাকবে বিশেষ মোবাইল কোর্ট।

সোমবার থেকে চারদিনের জন্য মাঠে থাকছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে বিভিন্ন বাহিনীর ১৫ জনের ফোর্স।

তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিয়োগ করা হয়েছে ১৬ জনের ফোর্স। এছাড়া ভোটের এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।  

রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী জানান, কেন্দ্র নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ইসি।

নির্বাচনের সার্বিক সার্বিক পরিবেশ দেখে এবং রিটানিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব জানান, যেখানেই শৃঙ্খলার অবনতি হবে সেখানেই বন্ধ হবে ভোট।

তিনি বলেন, বুথে সংশ্লিষ্ট ভোটার ছাড়া আর কারও প্রবেশাধিকার নেই। কমিশন কুমিল্লায় অবাধ, সুষ্ঠু ভোট করতে চায়। কেউ অনিয়মে জড়িত হলে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লায় একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

১৫ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭ ওয়ার্ডে ইভিএমে ভোট হবে। এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০। 

নারী ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯২ এবং পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। হিজড়া ভোটার দু’জন। মোট ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোট হবে।


একাত্তর/এআর