নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যার্তদের সহায়তায় রোববার (১৯ জুন) সকাল থেকে খালিয়াজুরী উপজেলায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি কাজ করছে। সেখানে তারা পানিবন্দিদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের কাজ করছে তারা।
এদিকে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে আগে থেকেই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া প্রতিটি নদনদীর পানি। উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার, কংশ নদী ৩৬ সেন্টিমিটার ও ধনু নদীর পানি ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
বন্যার কারণে নেত্রকোণার বাজারগুলোতে দাম বেড়েছে শুকনো খাবারের। বেড়েছে পশু খাদ্যের দাম। চিন্তার ভাজ পড়েছে বন্যার্ত মানুষের চোখে মুখে। নৌকার অভাবে শিশুরা বড় হাড়ি দিয়ে বন্যার পানি পাড়ি দিয়ে খাবার আনতে ছুটছে বাজারে। ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যার কারণে চিড়ামুড়ির দাম বেড়েছে গেছে।
জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে করে পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ৫ লাখ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৭৩ হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় ১৮৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।
একাত্তর/জো