উত্তাল পদ্মা নদীতে ডুবতে থাকা ২১ তরুণকে বাঁচালেন সচিব

শনিবার পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন নদীতে ডুবতে থাকা ২১ জনকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার অপুসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। না হলে সেদিন হরিষে বিষাদের ঘটনা ঘটে যেতে পারবো। 

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ শেষে একটি ট্রলারে করে ফিরছিলেন ২২ জনের একটি দল। পদ্মার প্রবল স্রোতে ট্রলারটি ডুবে গেলে মৃত্যুর মুখে পড়েন যাত্রীরা। এ সময় নদীতে ভাসতে থাকা ২১ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান কর্মকর্তারা। 

২৫ জুন দুপুর আড়াইটা। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দে ভাসছে পুরো জাতি। সেতু উদ্বোধনের পর জাজিরা প্রান্তের সমাবেশ শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ট্রলার স্ট্রিমার আর স্পিড বোটে করে জাজিরার সমাবেশে যোগ দিয়েছেন লাখো মানুষ। 

সমাবেশ শেষে অন্য অনেকের মতোই ট্রলারে করে ফিরছিলো ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা একটি দল। পদ্মার তীব্র স্রোতে ২২ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ডাক-চিৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। মাঝ নদীতে ভাসছিলেন তারা। 

এমন সময় এগিয়ে আসেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও তার সঙ্গে থাকা পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। সচিব অপুও পদ্মা বহুমুখী সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্পিড বোট নিয়ে ফিরছিলেন। এমন সময়ই তিনি দেখতে পানিতে ভাসতে থাকাদের।

সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্পিড বোট নিয়ে পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় দেখতে পাই, নদীর মাঝখানে নৌকা ডুবে বেশ কিছু লোক বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছে। এ সময় আমি তাদেরকে উদ্ধার করি।

প্রথম ধাপে স্পিডবোটে করে তারা আটজনকে উদ্ধার করেন। পরে আরও দুইটি স্পিডবোটে দিয়ে বাকিদেরও উদ্ধার করেন তারা। এদের সবাই ছিলেন বয়সে তরুণ। এ সময় নদীতে ছিলো তীব্র স্রোত ও বৃষ্টি। বৈরি আবহাওয়াকে উপেক্ষা করেই সবাইকে উদ্ধার করেন তারা। 

তিনি বলেন, তিনজনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় শ্রীনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে আমি নিজে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতের কারণে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

পরে নিখোঁজ তামিমের (২৪) মরদেহ তিনদিন পরে শরীয়তপুরের চিডার চর থেকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেলে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশকে বুঝিয়ে দেয়। 

তামিম চরফ্যাশন সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।



একাত্তর/এআর