গত দুই-তিনদিন যাবৎ হবিগঞ্জে ধীর গতিতে হাওর থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। বন্যার পানি নামায় হাওরবাসীর মধ্যে স্বস্তি আসলেও এখনও কমেনি দুর্ভোগ।
ধীরে ধীরে পানি নামায় এখনও বেশিরভাগ মানুষের ঘরবাড়ি রয়েছে পানির নিচে। ফলে আরও বেশ কিছুদিন আশ্রয়কেন্দ্রেই থাকতে হচ্ছে বানভাসিদের। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহযোগিতা ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, হাওরে পলি জমার কারণে পানি নামতে আরও সময় লাগবে।
জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য মতে, এবারের বন্যায় হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ সদর, মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলার ৫১ ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে, বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে পাঁচ শতাধিক গ্রাম। দুর্ভোগে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।
জেলা প্রশাসন জানায়, বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য খোলা হয়েছে ৩৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র। আর সেইসব আশ্রয়কেন্দ্রে স্থান নিয়েছে প্রায় ২৪ হাজারেরও অধিক পরিবার।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান জানান, দুর্গতদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ টাকা, ৪১৫ মেট্রিকটন চাল ও তিন হাজার ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবার জন্য কাজ করছে ৩০টি মেডিক্যাল টিম।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিনহাজ আহমেদ শোভন জানান, বন্যার পানি ধীর গতিতে হাওর থেকে নামতে শুরু করেছে। খোয়াই নদীর পানিও কমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। তবে এখনও কালনি-কুশিয়ারা নদীর পানি স্থির রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিপাত না হলে বন্যা পরিস্থিতির আর অবনতি হবে না। বানের পানিতে হাওরে প্রচুর পলি জমায় পানি ধীর গতিতে নামছে বলেও জানান তিনি।
একাত্তর/জো