হাওরের বুকজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও কৃষকের চোখে আনন্দ নেই। যাতায়াত ব্যবস্থার চরম বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত ধান বাজারে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ধান শহরে পাঠাতে পারছেন না।

রোববার (৩ মে) সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের গাগলাজুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ চিত্র।
সকাল সাতটা থেকে ট্রলি নিয়ে কাদায় আটকে আছেন চালক খোকন মিয়া। গাগলাজুর ইউনিয়ন থেকে ধান আনতে যাওয়ার পথে সড়কের বেহাল দশায় তার গাড়ির চাকা দেবে যায়। অবিরাম চেষ্টা করেও কাদামাটি থেকে চাকা তুলতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় তার গাড়িটি চলা শুরু করে।

খোকন মিয়া বলেন, এই পথ দিয়া ধান আনা এখন মরণফাঁদ হইয়া দাঁড়াইছে। গাড়ি চলে না, শুধু চাকা দেবে যায়।
হাওরের বেশিরভাগ রাস্তার প্রতিচ্ছবিই এখন এমন। স্থানীয়রা জানান, এই সঙ্কটের জন্য প্রকৃতির পাশাপাশি একশ্রেণির মানুষের অবহেলাও দায়ি। এদিকে হাওরে পানি খুব বেশি না হওয়ায় নৌকায় যাতায়াত বা ধান পরিবহন করাও সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় মাঠ থেকে ধান কাটলেও তা বিক্রি করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শত শত কৃষক।

যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্কটের কারণে কৃষকের ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মোহনগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুশ শাকুর সাদী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কৃষকদের ক্ষতি ও ভোগান্তি বাড়ছে। ধান বাজারে নিতে না পারায় তারা আর্থিক সঙ্কটে পড়ছেন। দুই বাজারের মধ্যে ধানের দামের ব্যবধান মণপ্রতি ১০০ টাকাও হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে কৃষকদের এই সঙ্কট থেকে উত্তরণে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

হাওরাঞ্চলের মানুষের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সড়কগুলো মেরামত করা না হলে কৃষকের ‘স্বপ্নের ধান’ ঘরে তোলা বা ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
ঋণ আর পানির নিচে পাকা ধান, সইতে পারলেন না হাওরের কৃষক
সরকারি দর ১৪৪০, অথচ নিরুপায় কৃষক ধান বেচছেন ৬০০ টাকায়