মহাসড়কে ভোগান্তিমুক্ত রাখতে মাঠে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ

ঈদুল আযহায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়‌কের কুমিল্লা অঞ্চলে নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে প‌রিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাপক ব‌্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ কর‌ছে হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়ন। এই অঞ্চলের ৭১৭ কিলোমিটার সড়ককে ভোগান্তিমুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বাড়‌তি নিরাপত্তাসহ মোবাইল টিম, কুইক রেসপন্স টিম, সাব কন্ট্রোল রুম ও অতিরিক্ত কমিউিনিটি পুলিশ। 

একইসা‌থে জেলা পু‌লিশ মহাসড়‌কের পাশ্ববর্তী থানা এলাকায় যেখা‌নে বাজার ও বাসষ্ট‌্যান্ড র‌য়ে‌ছে সেখা‌নে অতি‌রিক্ত পু‌লিশ মোতা‌য়েন করা হ‌য়ে‌ছে। এদিকে মহাসড়‌কের দাউকা‌ন্দিসহ পাঁচ‌টি স্থা‌নে সি‌সিক‌্যামারার মাধ‌্যমে সড়‌কের অবস্থা পর্য‌বেক্ষণ করা হচ্ছে। সড়‌কে নি‌র্বি‌ঘ্নে চলাচ‌লের জন‌্য সড়কজনপ‌দের স্বেচ্ছা‌সেবীকর্মীরা কাজ কর‌ছেন। 

মহাসড়কের কুমিল্লা রিজিয়নের ৭১৭ কিলোমিটার মহাসড়কে যাত্রী ও পশুবাহী যানবাহনে দুর্ভোগ হবে না বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ। হাইও‌য়ে পু‌লিশ কু‌মিল্লা রি‌জিয়ন ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ, কুমিল্লা-সিলেট, কুমিল্লা-নোয়াখালী-লক্ষীপুর, কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়ককে যানজটমুক্ত রাখতে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত ব্যবস্থার পাশাপা‌শি মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাইরোধে নেয়া হয়েছে বি‌শেষ সতর্কতা ব‌্যবস্থা। 

ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে কুমিল্লা রিজিয়নে হাইয়ে পুলিশের ৫৮ টি মোবাইল টীম, ১৫ কুইক রেসপন্স টীম, ১১টি রেকার, ৬টি সাব কন্ট্রোল রুম, ৬০ জন অতিরিক্ত কমিউিনিটি পুলিশ মোতায়েনসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে মহাসড়কে বেশ ক‌য়েক‌টি প‌য়ে‌ন্টে। 

হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানান,  হাইও‌য়ে পু‌লি‌শের ব‌্যবস্থাপনার কার‌ণে সাধারণ কুমিল্লা অঞ্চলের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে যানজট হয় না। গত ঈদেও এই সড়কগুলোতে চলাচলকারীদের কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। নি‌র্বি‌ঘ্নে সক‌লে বা‌ড়ি ঈদ উদযাপন ক‌রে‌ছে।‌ কোনো দুর্ঘটনাজনিত কার‌ণে কিংবা দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় যদি যানবাহনের জটলা তৈরি হয়, সেজন্য হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নানান ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর টোলপ্লাজায় সাধারণ গাড়ির চাপ বাড়লেই যানজট তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: ‘বঙ্গবন্ধু কূটনৈতিক উৎকর্ষ’ পদক পেলেন দুই রাষ্ট্রদূত

পুলিশ সুপার আরও বলেন, সাধারণ টোল নেয়ার সক্ষমতার বাইরে যদি একই সময়ে বিপুল পরিমান যানবাহন সেতু পাড় হতে চায় তখনি বিপত্তি ঘটে। এটা নিয়ে আসলে সেতু কর্তৃপক্ষ ভাবতে হবে। অন্য কোথাও কোন বিপত্তি হবে না বলে আশা করছি।

তিনি আরও জানান, মহাসড়কে যেন পশুবাহী যানবাহনকে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাধারণ দিনে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় এই যানবিাহনের পরিমান বেড়ে দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়ে যায়। যে কারণে মহাসড়কের সেতুর টোলপ্লাজা এবং বাজার এলাকাগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন অপসারণে দেরি হলেই যানজট দীর্ঘ হতে থাকে। 


একাত্তর/আরবিএস