সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ দু’পক্ষের সংঘর্ষে রূপ নিলে অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬-৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মাটিয়া মালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঈদের আগের দিন বিকেলে মাটিয়া মালিপাড়া গ্রামের যুবকেরা তাদের গ্রামের খেলার মাঠে ঈদ উপলক্ষে ফুটবল খেলার আয়োজন করেন। আর এ খেলা চলাকালে ওই গ্রামের মোবাক্ষর সরকারের ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র সিয়াম সরকারকে একই গ্রামের ফরিদ নামের এক ব্যক্তি বেধড়ক মারপিট করেন। আর এ ঘটনায় ওই ফুটবল খেলা পণ্ড হয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, পরে মঙ্গলবার মাটিয়া মালিপাড়া হাইস্কুল মাঠে বিষয়টি নিয়ে ওই গ্রামের কলেজ শিক্ষক ও নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোফাজ্জল সরকার মীমাংসার জন্য কয়েকজন গ্রাম-প্রধানকে নিয়ে আলোচনায় বসেন।
এ সময় মাটিয়া মালিপাড়া গ্রামের আবুল কালাম, শাহিনুর রহমানসহ ৬-৭ জন সেখানে থাকা মোবাক্ষর সরকার তার ভাই মাসুদ রানাসহ কয়েক জনের উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালান। আর এ হামলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।
এতে মাটিয়া মালিপাড়া গ্রামের মোবাক্ষর সরকার (৫৫), মাসুদ রানা (৫২), শহিদুল ইসলাম (৩৫), সিয়াম সরকার (২২), আব্দুল জব্বার (৪৫), আবুল কালাম (৪৪), শাহিনুর রহমান সুরুজ (৪৩), মো. সুমন (২৫) সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
খবর পেয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ওসি (তদন্ত) মো. নূরে আলম জানান, এ ঘটনায় উভয়পক্ষই তাড়াশ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
একাত্তর/জো