পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদককে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আলোচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহিন ওরফে শাহিন শাহের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১২ জুলাই) উপজেলার উলানিয়া বাজারে রাসেল স্কয়ার নামে একটি চত্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওবায়দুল ইসলামকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহিন ওরফে শাহিন শাহের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ওবায়দুল ইসলাম।
মো. শাহিন তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন বলেও সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন ওবায়দুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জানিয়েছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল ইসলামকে ডেকে দুই-একটি কথা জিজ্ঞেস করার পরেই উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। সেই সাথে শতশত মানুষের সামনে তাকে বেশ কয়েকটি চড় মারেন।
পরে উপস্থিত অন্যান্য নেতাকর্মীরা ওবায়দুল ইসলামকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহিন একইসাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদাসহ গলাচিপা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। মো. শাহিন স্থানীয় ওই সংসদ সদস্যের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা বলেন, কিছুদিন পরপর উপজেলা চেয়ারম্যানের এমন কর্মকান্ডে তারা চরম বিব্রত।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্তোষ দে বলেন, 'এ রকম ঘটনা এটাই প্রথম না। এর আগের অন্য যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদকের গায়ে মোবাইল ছুঁড়ে মারেন মো. শাহীন। আমি তার সাথে একমত হতে পারি নাই তাই আমার সাথেও অনেকবার খারাপ ব্যবহার করছে।'
এ বিষয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা একাত্তরকে বলেন, 'ঘটনাটি ঘটে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ২০ থেকে ২৫ মিনিট আগে। রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমাকে ফোন দিয়ে এ ব্যাপারে জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিকে দ্রুত সাংগঠনিক রিপোর্ট করতে বলেছি।'
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেনের সাথে কথা হয়েছে জানিয়ে এমপি বলেন, তার কাছে সবিস্তারে জানানোর পরে আমার মতামত দেবো।
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার সারাদেশে করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দিবস
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. শাহিন এ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, 'ওবায়দুল বিভিন্নজনকে আমার সাথে চলতে নিষেধ করে। এ কারনে ওকে দু'টি চড় থাপ্পর দিয়েছি। এছাড়া তেমন কিছু হয়নি।'
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ রয়েছে মো. শাহিনের বিরুদ্ধে। এর আগে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করে তিনি জেল খেটেছিলেন।
স্থানীয় এক নারী আইনজীবীকে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারধরের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতাকর্মী- তার মারধর বা গালিগালাজ থেকে কেউই বাদ যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাত্তর/এসজে