কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে গৃহবধূ সরস্বতী রানীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ঘাতক স্বামী রঞ্জিত চন্দ্র দাসকে আটক করেছে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ জুলাই) ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এর আগে ওইদিন বিকাল ৩টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী সরস্বতী রানীকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করে রঞ্জিত চন্দ্র দাস।
নিহত সরস্বতী রানী হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল গ্রামের উমেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরগঞ্জ উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর মালাকার বাড়ির ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুশীল চন্দ্র দাসের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র দাসের সঙ্গে হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল গ্রামের উমেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে সরস্বতী রানীর ১২ বছর আগে বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
জানা যায়, সন্তান হওয়ার পর থেকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। কয়েকমাস আগে সরস্বতী রানী ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়ে একাই বসবাস শুরু করেন।
এদিকে তার স্বামী রঞ্জিত দাস নিজ এলাকায় একটি সেলুনের দোকানে কর্মরত। তাদের সন্তান দাদা-দাদীর সাথে থাকে। ঈদের চারদিন আগে স্বামী রঞ্জিত ঢাকায় গিয়ে স্ত্রী সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে আসেন।
বৃহস্পতিবার স্বজনদের সাথে দুপুরের খাবার শেষে নিজ ঘরে যান তারা। বিকাল ৩টার দিকে সরস্বতী রানীর চিৎকার শুনে স্বজনরা গিয়ে দেখেন সরস্বতী রানী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। এসময় তার স্বামী রঞ্জিত চন্দ্র দাস দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন স্থানীয় চিকিৎসককে ডেকে আনলে চিকিৎসক সরস্বতীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহতের বড় ভাই মিন্টু দাস বাদি হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তপন কুমার বাগচীর নেতৃত্বে এসআই মিজানুর রহমান ও এএসআই ইমদাদুল হক অভিযান চালিয়ে উত্তর হাওলার বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে ঘাতক রঞ্জিত চন্দ্র দাসকে আটক করে।
আরও পড়ুন: প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত
এসময় তার দেয়া তথ্যমতে তার বাড়ি সংলগ্ন পুকুরপাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তপন কুমার বাগচী জানান, ‘নিহতের বড় ভাই মিন্টু দাসের দায়েরকৃত হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার ভোররাতে আমরা অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বামী রঞ্জিত চন্দ্র দাসকে আটক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।’
একাত্তর/এসজে