লেবুখালীতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে, আহত ৩৫

পটুয়াখালীর লেবুখালীতে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন।  এর মধ্যে ১৯ জনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর ১০ জনকে ঢাকা ও বরিশাল রেফার করা হয়েছে। 

শনিবার (১৬ জুলাই) ভোররাত সোয়া তিনটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈগল পরিবহনের এই বাসটি ঢাকার আব্দুল্লাহপুর  থেকে কুয়াকাটা যাচ্ছিলো। 

দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয়। চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। আহত যাত্রীরা এই দুর্ঘটনার জন্য  চালকদের বেপরোয়া গতি ও অসতর্কতাকে দায়ী করছে।

বাসের যাত্রী মেহেদী হাসান জানান, তার বন্ধু গোলাম সরোয়ারকে সাথে নিয়ে কুয়াকাটা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার বসুন্ধরা থেকে ঈগল পরিবহনের ওই বাসে ওঠে। 

রাত সোয়া তিনটার দিকে লেবুখালী কৃষি উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের কাছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি রাস্তা থেকে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এতে তার বন্ধু মাথায় ও বুকে আঘাত প্রাপ্ত হয়। এছাড়াও গাড়ির প্রায় সব যাত্রী কমবেশি আহত হয়।

বাসের আরেক যাত্রী গাজীপুর বোর্ড বাজার এলাকার একটি হাই স্কুলের শিক্ষক শারমিন আক্তার জানান, তিন মেয়ে নিয়ে সে শ্বশুড় বাড়িতে বেড়াতে আসার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। পদ্মা সেতু পর্যন্ত ড্রাইভার ঠিকঠাকভাবে গাড়ি চালালেও এরপরে বেপরোয়া চলছিল বাস।  যাত্রীরা বারবার সাবধান করা সত্ত্বেও কর্ণপাত করছিলেন না চালক। লেবুখালী-পায়রা সেতু পার হওয়ার পরে মৌকরন সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তা থেকে খাদে পড়ে যায়। 

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ভোর চারটা বিশ থেকে রোগী ভর্তি শুরু হয়। মোট ১৯জন এখানে ভর্তি হয়।  বর্তমানে হাসপাতালে নয়জন ভর্তি রয়েছেন। বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও বরিশাল নেয়া হয়েছে। 

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান,  দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স খবর দিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাস  জব্দ করা হয়েছে, চালক পলাতক রয়েছে।


একাত্তর/এআর