সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ট্যাংরাখালিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক দুই ইউপি সদস্যের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুরের পাশপাশি দুইজন খুন হওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আব্দুল হামিদ লাল্টুসহ দুইজনকে আটক করেছে র্যাব।
রবিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার ঝাপা ইউনিয়ন সদর থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার ট্যাংরাখালি গ্রামের মৃত মান্দার গাজীর ছেলে আব্দুল হামিদ লাল্টু (৫২) ও কালিনি গ্রামের আরশাদ গাজীর ছেলে বাবলুর রহমান (৪২)।
খুলনা র্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা শাখার স্কোয়াড্রন লিডার ইসতেহাক আহম্মেদ জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে রবিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে আব্দুল হামিদ লাল্টু ও বাবলুর রহমানকে যশোর জেলার মনিরামপুর থানার ঝাপা ইউনিয়ন সদরের একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে সোমবার দুপুরে শ্যামনগর থানায় সোপর্দ করা হবে।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক মোমরেজ আলী জানান, র্যাব ওই দুই আসামিকে থানায় সোপর্দ করলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। এ পর্যন্ত জোড়া খুনের মামলায় ১০জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রমজাননগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতা মো: আব্দুল বারী বিএনপি কর্মী আব্দুল হামিদ লাল্টুর কাছে পরাজিত হন। এরপর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে জয়ী ও পরাজিত ইউপি সদস্য ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষ্যে শুক্রবার সোয়া ৬ টার দিকে দিকে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অফিসে বিশেষ সভা শুরু হয়। সে সময় বর্তমান ইউপি সদস্য ও বিএনপি কর্মী আব্দুল হামিদ লাল্টুর নেতৃত্বে শতাধিক লোক হাতে দা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়।
এ ব্যাপারে ট্যাংরাখালি গ্রামের মৃত তফিলউদ্দিন গাজীর ছেলে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারি বাদি হয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু, ইউপি সদস্য আজগার আলী বুলুসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা এছাড়া আরও ৫০ জনকে আসামি করে ৯ জুলাই থানায় একটি হত্যা মামলা (১৩) দায়ের করেন।
একাত্তর/আরবিএস