স্বামীকে মারপিটের পর গৃহবধূর চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগরে এক গৃহবধূকে (১৯) মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারপিটের পর বটি দিয়ে মাথার চুল কেটে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এসময় ওই গৃহবধূর স্বামীকেও মারপিট করেছেন তারা। 

রোববার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কালীগ্রাম কয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বশুর কালীগ্রাম কয়াপাড়া গ্রামের রাজ্জাক সিপাই (৬০), ভাসুর দেলোয়ার হোসেন (৩৫) ও ননদ রাজিয়া সুলতানাকে (৩৮) আটক করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) রাতে তার এক বন্ধুকে নিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী একসাথে বাড়িতে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। 

তিনি বলেন, এসময় স্ত্রীর ঘরে পরপুরুষ ঢুকেছে এমন সন্দেহে বাইরে থেকে পরিবারের লোকজন বাড়ির দরজায় শিকল তুলে দেয়। খাওয়া শেষে ডাকাডাকি করলে তার বাবা, বড় ভাই, বোন ও ভাবি শিকল খুলে দিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে মারপিট করে। এসময় তার স্ত্রীর উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে স্ত্রীর বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়। 

খবর পেয়ে শুক্রবার (১৫ জুলাই) স্ত্রীর বাবার বাড়ির লোকজন এলে তাদের সাথে তার স্ত্রীকে তারা বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তিনি আরও জানান, রোববার রাত আটটার দিকে তিনি তার শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। এরপর বাড়িতে ঢুকতে গেলে তার বাবা, বড় ভাই, বড় বোনসহ পরিবারের লোকজন স্বামী-স্ত্রীকে মারপিট করতে থাকেন। এসময় তারা বটি দিয়ে তার স্ত্রীর মাথার চুল কেটে দেন। 

আরও পড়ুন: ভাসুরের ঘর থেকে কিশোরী নববধূর মরদেহ উদ্ধার

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ জানান, বিয়ের পর থেকে মাঝেমধ্যেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মানসিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন তারা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে মারপিট করাসহ মাথার চুল কেটে নির্যাতন করেছেন। এ ঘটনায় বাদি হয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। 

এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে সোমবার (১৮ জুলাই) থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহবধূর শ্বশুর, ভাসুর ও ননদকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 


একাত্তর/এসজে