কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের মম্বিপাড়া সৎসঙ্গ মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে জালে পেঁচানো অবস্থায় ব্যানডেড ক্রেইট (শঙ্খিনি বা শাখামুটি) প্রজাতির একটি বিরল প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) দুপুরে জালে পেঁচানো অর্ধমৃত সাপটি উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতে কুয়াকাটা পৌরসভার খালে অবমুক্ত করা হয়েছে।
সাপটিকে উদ্ধার করেন এ্যানিমেল লাখারস কলাপাড়া টিমের সদস্য কে এম বাচ্চু, রাকায়েত আহসান, আরিফুল ইসলাম শাওন।
তারা জানান, সাপটি প্রায় তিন ফুট লম্বা, দেখতে কালো, হলুদের চক্রাকার ছোপ ছোপ উজ্জ্বল বর্ণের। এটি Elapidae পরিবারভুক্ত একপ্রকার বিষধর সাপ। এটি Bungarus গণের আওতাভুক্ত। এই সাপের বিস্তৃতি দেখা যায় ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়। এটি কেউটে সাপের ভেতরে সবচেয়ে দীর্ঘ এবং এটির সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য হতে পারে ২.১ মি (৬ ফু ১১ ইঞ্চি)।
তারা আরও জানান, এ সাপ শান্ত ও লাজুক স্বভাবের। সাধারণত মানুষ এড়িয়ে চলে। এমনকি বিরক্ত করলেও শরীর পেঁচিয়ে মাথা শরীরের নিচে লুকিয়ে রাখে। বলা যায় মানুষের জন্য হুমকি স্বরুপ নয় মোটেও। তবে শিকারে বেশ দ্রুত। অন্য সাপ খায় বিশেষ করে রাসেল ভাইপারের মত বিষাক্ত সাপগুলিও।
জানা যায়, কাল কেউটে সাপ সমতল ভূমির উন্মুক্ত স্থানে বাস করে। তবে পাহাড়ি জলস্রোতেও এদের দেখা যায়। এরা ধীর গতিসম্পন্ন এবং তীব্র বিষ ধারণ করে। তবে এ প্রজাতির সাপ আগে এ অঞ্চলে দেখা গেলেও সামুদ্রিক এ সাপটি এখন আর দেখা যায় না।
এ্যানিমেল লাখারস কলাপাড়া টিমের এই সদস্যরা জানান, সমুদ্রে কারেন্ট জালের ব্যবহার ও বনভূমি ক্রমশ নষ্ট হওয়ায় সাগর ও বনাঞ্চলে আবাসভূমি হারিয়ে মাঝে মাঝে দু'একটা সাপ লোকালয়ে চলে আসে। এ বিলুপ্ত প্রজাতির সাপ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে বলে তারা জানান, কেননা এ সাপ পরিবেশের জন্য উপকারী।
একাত্তর/জো