বাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে আছেন রাবনাবাদ নদী ও সাগর মোহনা ঘেষা পটুয়াখালীর বালিয়াতলীর ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে চর বালিয়াতলী গ্রাম রক্ষার মূল বেড়িবাঁধটি।
বাঁধের বটতলাসহ কয়েকটি অংশে জোয়ারের পানির তোড়ে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বালিয়াতলীর ইউনিয়নের চর হাবিব গ্রাম। আর এতে করে নি:স্ব এখন শতাধিক পরিবার।
গ্রামবাসীরা বলছেন, বাইরে তাদের চাষের জমি ও অনেক বসত ঘর ছিলো। ছিলো বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বনাঞ্চল। কিন্তু নদী ও সাগরের জোয়ারের পানির তোড়ে তা বিলীন হয়ে এই বাঁধে ভাঙন ধরেছে। এছাড়াও, প্রায় প্রতিদিনই ভাঙছে বাঁধের বিভিন্ন অংশ এবং স্লোপ।
তারা আরও বলছেন, এ গ্রামে একটি মাত্র আশ্রয় কেন্দ্র। তাতে তিন’শ মানুষের বেশি আশ্রয় হয় না দুর্যোগের সময়। এখন যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়বে। বন্ধ হয়ে যাবে পাঁচ গ্রামের দুই হাজার একর জমির আমন চাষাবাদ। জরুরী ভিত্তিতে বাঁধের ভেঙে পড়া স্লোপ মেরামতসহ বাঁধ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. মহসীন এবং মর্জিনা বেগম বলছেন, বাঁধ রক্ষার দাবিতে এস টি ই পি প্রকল্পের সহযোগিতায় কমিউনিটি সিবিও সদস্য এবং গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। কিন্তু এতে কোনকিছুই আমলে নিচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।
তাদের দাবী, প্রতিদিনই বাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে। এতে বালিয়াতলী ইউনিয়নের চর বালিয়াতলি, লেমুপাড়া, আমতলীপাড়া, বড় বালিয়াতলি, দ্বিগর বালিয়াতলী গ্রামের দেড় হাজার পরিবার এখন আশঙ্কায়।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলছেন, বাঁধের ভাঙা অংশ পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি।
একাত্তর/ এনএ